জুন ১১, ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম
পঞ্চগড় পৌরসভার জালাসী এলাকায় বিদ্যালয়ের মাঠে ফুটবল খেলার সময় বল পাশের একটি বাড়িতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিন কোমলমতি শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে মারধর করে আহত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে স্থানীয় শাপলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। গুরুতর আহত ওই তিন শিক্ষার্থীকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
আহত শিক্ষার্থীরা হলো পঞ্চম শ্রেণির রেজওয়ান খান অপূর্ব ও মিম হোসেন এবং চতুর্থ শ্রেণির তাওহীদ হাসান আশিক।বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে টিফিনের বিরতির সময় শিক্ষার্থীরা প্রতিদিনের মতো স্কুল মাঠে দলবেঁধে ফুটবল খেলছিল। খেলার একপর্যায়ে একটি শট থেকে বলটি উড়ে গিয়ে বিদ্যালয় সংলগ্ন প্রতিবেশী হাসান আলীর বাড়ির রান্নাঘরে পড়ে। এতে চরম ক্ষিপ্ত হয়ে হাসান আলীর স্ত্রী জয়তুন বেগম লাঠি নিয়ে মাঠে এসে কয়েকজন শিশুকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন এবং শিশুদের লক্ষ্য করে উপর্যুপরি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে ওই তিন শিশু শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত পায়।
শাপলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাজেদা জান্নাতুল পারভীন জানান যে কান্নাকাটি করা আহত শিক্ষার্থীদের শরীরে লাঠির আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রতিবেশীদের এমন হিংস্র আচরণে শিশুরা স্কুলে আসতে ভয় পাবে উল্লেখ করে এই বর্বরোচিত ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকেরা। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে অভিযুক্তের স্বামী হাসান আলী বলেন যে রান্নাঘরে বল পড়ায় তার স্ত্রী রান্নার কাজে ব্যবহৃত লাঠি দিয়ে শিশুদের আঘাত করেছে। পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওসি আশরাফুল ইসলাম জানান যে এই বিষয়ে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ মেলেনি, তবে অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন