জুন ১৬, ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম
কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশ ইনের শিকার দুই শিশুসহ ছয় বাংলাদেশি তিন দিন ধরে আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে আছেন। গত রোববার ভোর থেকে খোলা আকাশের নিচে অনাহার ও চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে মানবেতর দিন কাটছে এই মানুষগুলোর। রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের গয়টাপাড়া সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১০৬০ নম্বর মেইন পিলারের ১ নম্বর সাব-পিলার এলাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
যথাযথ কূটনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে বিজিবি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে।শূন্যরেখায় আটকে থাকা ব্যক্তিরা হলেন ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া এলাকার কংশেরকুল গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন, তাঁর স্ত্রী সুমি আক্তার, তাঁদের দুই সন্তান ফাতেমা ও ফাহিমা এবং একই গ্রামের সজীব মিয়া ও হিমেল মিয়া।
চারদিকে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কড়া নজরদারির কারণে চরম মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে সেখানে। সুমি আক্তার আকুতি জানিয়ে বলেন যে তাদের জীবন চলে গেলেও যেন তার শিশু দুটিকে বাঁচানো হয়। অপুষ্টি ও খাদ্যসংকটের কারণে পাঁচ বছর ও কয়েক মাসের দুটি শিশুই ক্রমাগত অসুস্থ হয়ে পড়ছে।ভুক্তভোগী বিল্লাল হোসেন জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে দালালের মাধ্যমে কাজের আশায় তারা সীমান্ত পার হয়ে ভারতে গিয়েছিলেন।
সেখানে তারা সে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আটক হন এবং গত রোববার ভোরে বিএসএফ সদস্যরা তাদের জোরপূর্বক কাঁটাতারের ওপারে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের তীব্র বাধা এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সতর্ক অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেননি।
এই ঘটনার পর বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে জরুরি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান মেলেনি। আটক ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করে বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বর্তমানে তারা নো ম্যানস ল্যান্ডেই অবস্থান করছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন