রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও বাঁশখালীতে পানিবন্দি ৫ লক্ষাধিক মানু

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুলাই ১১, ২০২৬, ১২:৪৪ পিএম

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও বাঁশখালীতে পানিবন্দি ৫ লক্ষাধিক মানু

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। দুই উপজেলায় পাঁচ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। গত দুদিন ধরে বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা।জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগরীসহ জেলার ১৬ উপজেলায় এক লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মোট ১৭৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৬৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে ২৩ হাজার ৮৫৩ জন আশ্রয় নিয়েছেন। বন্যার্তদের সহায়তায় সরকার সাত শ টন চাল ও ছয় কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এর মধ্যে তিন শ টন চাল, চার কোটি ৩০ লাখ টাকা, ২২ হাজার ২৫০ প্যাকেট শুকনা খাবার এবং ১৮ হাজার ৩৩০ প্যাকেট রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। বাকি ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য মজুত রয়েছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল বিকেল ৩টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ১২ জুলাই পর্যন্ত ভারি বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রয়েছে।

গতকাল শুক্রবার বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নে বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে আশিক ও মিরাজ নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দুর্গম উপকূলীয় অনেক ইউনিয়নে এখনো ত্রাণ পৌঁছায়নি। মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন থাকায় যোগাযোগ ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

সাতকানিয়ার কাছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের একটি অংশ বৃহস্পতিবার থেকে পানির নিচে রয়েছে। পানি বাড়লে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। সাতকানিয়ায় সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। বাজালিয়া, কেওচিয়া, ছদাহা, কালিয়াইশসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলায় বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় শুক্রবার থেকে সেনাবাহিনী অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সেনাবাহিনীর ১০ ও ২৪ পদাতিক ডিভিশন লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালীসহ বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলাতেও কাজ করছে। উদ্ধার অভিযান ও ত্রাণ কার্যক্রম সুশৃঙ্খল করতে ২৪ পদাতিক ডিভিশন দুর্গত এলাকায় তিনটি ক্যাম্প স্থাপন করেছে।