মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মাগুরায় ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতের বিল ৫০৬ কোটি টাকা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম

মাগুরায় ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতের বিল ৫০৬ কোটি টাকা

ছবি: সংগৃহীত

মাগুরায় মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এক গ্রাহককে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার অস্বাভাবিক বিল দিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। আড়পাড়া জোনাল অফিসের এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন ভুলে হতবাক হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারসহ চার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের বাসিন্দা মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে সেপ্টেম্বর মাসের এই অবাস্তব বিদ্যুৎ বিলটি ইস্যু করা হয়। বিলের বিবরণ অনুযায়ী, গত ৮ আগস্ট মিটারের পূর্ববর্তী রিডিং ছিল ১৬০ এবং ৮ সেপ্টেম্বর বর্তমান রিডিং দাঁড়ায় ৩৯৫-এ। সেই হিসাবে সেপ্টেম্বর মাসে ওই গ্রাহকের বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রকৃত পরিমাণ ছিল মাত্র ২৩৫ ইউনিট। ২৩৫ ইউনিটের জন্য স্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল আসার কথা ছিল মাত্র এক হাজার ৯৬৩ টাকা।

কিন্তু বিলিংয়ের সময় সাধারণ চার্জের পাশাপাশি অবাস্তবভাবে ডিমান্ড চার্জ ধরা হয় ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা। এর সঙ্গে সরকারি মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট হিসেবে যোগ করা হয় ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা এবং মিটার ভাড়া ১০ টাকা। সব মিলিয়ে মোট বিলের অঙ্ক দাঁড়ায় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা। এমনকি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই বিল পরিশোধ না করলে বিলম্ব মাশুলসহ তা বেড়ে ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকায় পৌঁছানোর নির্দেশ দেওয়া হয় কাগজে। অথচ প্রকৃত হিসেবে বিলম্ব মাশুলসহ বিল আসার কথা ছিল মাত্র দুই হাজার ৫৬ টাকা।

অবিশ্বাস্য এই বিলের কপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের টনক নড়ে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর দ্রুত বিলটি সংশোধন করে কর্তৃপক্ষ এবং মঙ্গলবার গ্রাহক সংশোধিত মূল বিল ব্যাংকে পরিশোধ করেন। ভুক্তভোগী গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এটি নিছক ভুতুড়ে কোনো ভুল নয়, রীতিমতো দায়িত্বহীনতা ও আজব ঘটনা। এমন ভুলের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক প্রতিকার হওয়া জরুরি।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. রেজাউল করিম জানান, গ্রাহকের মিটার পরিবর্তনের সময় অসাবধানতাবশত মিটারের সিল নম্বরের অঙ্কগুলো ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হয়ে গিয়েছিল। যার ফলে কম্পিউটার সিস্টেমে এই অস্বাভাবিক অঙ্কের বিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয়।

মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. মহিদুল ইসলাম জানান, বিল প্রস্তুতের ক্ষেত্রে এত বড় ভুলের সঙ্গে যুক্ত থাকার দায়ে আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. রেজাউল করিম ও বিলিং সহকারী সোমা রানীসহ মোট চারজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।