বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬,

যমুনা সার কারখানায় উৎপাদন চালুর ২ দিনের মাথায় ফের বন্ধ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৮, ২০২৬, ১১:৫৯ এএম

যমুনা সার কারখানায় উৎপাদন চালুর ২ দিনের মাথায় ফের বন্ধ

যমুনা সার কারখানায় উৎপাদন দীর্ঘ বিরতির পর চালু হওয়ার মাত্র দুই দিনের মাথায় আবারও বন্ধ হয়ে গেছে। জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বয়লারে আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল থেকে ইউরিয়া উৎপাদন স্থগিত রয়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা গেছে, দীর্ঘদিন গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় অচল পড়েছিল কারখানাটি।

সম্প্রতি গ্যাস সংযোগ পুনঃস্থাপনের পর গত সোমবার দিবাগত রাত ৩টা ১০ মিনিটে কারখানায় ইউরিয়া সার উৎপাদন নতুন করে শুরু হয়। তবে উৎপাদনে ফেরার মাত্র দুই দিনের মাথায় বুধবার বিকেলে কারখানার প্রধান বয়লারে জটিলতা তৈরি হলে প্লান্টটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন প্রকৌশলীরা।

কারখানার উৎপাদন বিভাগের প্রধান মো. ফজলুল হক জানান, দীর্ঘ সময় কারখানাটি পুরোপুরি বন্ধ অবস্থায় পড়ে থাকার কারণেই হঠাৎ বয়লারে এই ত্রুটি দেখা দিয়েছে। তিনি জানান, প্লান্টের অন্যান্য সমস্ত যন্ত্রাংশ বর্তমানে স্বাভাবিক ও সচল রয়েছে। প্রকৌশলীরা ইতিমধ্যে সংস্কার কাজ শুরু করেছেন। আগামীকালের মধ্যে বয়লারের সমস্যাটি মেরামত করা সম্ভব হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কারখানাটি পুনরায় উৎপাদন কার্যক্রমে ফিরতে পারবে। পুরোদমে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী উৎপাদনে যেতে না পারলেও বন্ধ হওয়ার আগে গত দুই দিনে কারখানাটিতে মোট ১ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদিত হয়েছে।

কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ থাকার ইতিহাস বেশ দীর্ঘ।

তীব্র গ্যাস সংকট ও বহুমুখী যান্ত্রিক জটিলতার কারণে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ ২৩ মাস টানা অচল ছিল এই সার কারখানা। পরবর্তীতে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে আবারও গ্যাস সংকটে পড়ে বন্ধ হয়ে যায় উৎপাদন কার্যক্রম। এরপর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে যমুনা সার কারখানায় পুনরায় গ্যাস সরবরাহ চালু করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

যাত্রা শুরুর শুরুতে কারখানাটির দৈনিক সার উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন। তবে বেশ কয়েক বছর ধরে অপর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ ও অভ্যন্তরীণ যান্ত্রিক সমস্যার কারণে বর্তমান সক্ষমতা দৈনিক ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ মেট্রিক টনে নেমে এসেছে।

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন বা বিসিআইসির তালিকাভুক্ত ১ হাজার ৯০০ জন ডিলারের মাধ্যমে কারখানাটি জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরাঞ্চলের ২১টি জেলায় নিরবচ্ছিন্নভাবে ইউরিয়া সার সরবরাহ করে থাকে। স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত থাকলে এবং প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণ সচল থাকলে প্রতি মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকার সার উৎপাদিত হয়।

এতে প্রতিষ্ঠানটির মাসিক নিট মুনাফা থাকে প্রায় ৬০ কোটি টাকা।

অন্যদিকে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ থাকলেও শুধু প্লান্টটি সচল বা কার্যকর অবস্থায় ধরে রাখতে গ্যাস বিল বাবদ প্রতি মাসে প্রায় ৬ কোটি টাকা গুনতে হয় কর্তৃপক্ষকে।