সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

রংপুরে ৮ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত, লক্ষণ ‘চামড়ায় ঘা’

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১, ২০২৫, ১০:৫৫ এএম

রংপুরে ৮ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত, লক্ষণ ‘চামড়ায় ঘা’

ছবি - সংগৃহীত

রংপুরের পীরগাছা সদর ও পারুল ইউনিয়নসহ তিন উপজেলায় মানুষের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দেওয়ায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) পীরগাছা সদর ও পারুল ইউনিয়নের উপসর্গ থাকা ১২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে তাদের মধ্যে ৮ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত করেছে। আইইডিসিআরের পরিচালক তাহমিনা শিরীন মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে পশুবাহিত অজানা রোগে মানুষ আক্রান্ত হওয়ার খবর প্রকাশিত হলে স্বাস্থ্য বিভাগ এবং প্রাণিসম্পদ দপ্তর নড়েচড়ে বসে। আইইডিসিআরের একটি প্রতিনিধিদল গত ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর পীরগাছার আক্রান্তদের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই ও সেপ্টেম্বরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে পীরগাছায় দুজন মারা যান এবং একই সময়ে চারটি ইউনিয়নে অর্ধশতাধিক মানুষ আক্রান্ত হন। আক্রান্তদের অনেকেই অসুস্থ গরুর মাংস খাওয়া বা তার সংস্পর্শে আসার পর অসুস্থ হন। সেই সময় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরীক্ষাগারে গরুর মাংসের নমুনায়ও অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছিল।

পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ তানভীর হাসনাত জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ জন রোগীর তথ্য তাদের কাছে আছে, যাদের মধ্যে ৩০ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং অধিকাংশই অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তবে তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক দুটি মৃত্যুর কারণ সরাসরি অ্যানথ্রাক্স নয়, যদিও উভয়ের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু ছিল।

রংপুরের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. রুহুল আমিন বলেন, পীরগাছার পাশাপাশি মিঠাপুকুর ও কাউনিয়াতেও অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা গেছে এবং আরও আটজনের নমুনা পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, আক্রান্ত গবাদি পশুর রক্ত, মাংস, শ্লেষ্মা বা নাড়িভুঁড়ির সংস্পর্শে এলেই মানুষ অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হতে পারে; তবে এ রোগ মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না। এর প্রধান লক্ষণ হলো চামড়ায় ঘা তৈরি হওয়া।

স্থানীয়দের দাবি, গত দুই মাসে অ্যানথ্রাক্সে পীরগাছায় শতাধিক গবাদি পশু মারা গেছে। তবে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবু ছাইদ জানান, আতঙ্কের কিছু নেই; জেলার ১৩ লাখের বেশি গবাদি পশুর মধ্যে এরই মধ্যে ১ লাখ ৬৫ হাজারটিকে অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এ রোগ প্রতিরোধে মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশুকে নিয়মিত টিকা দেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা।