রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে এএসপি, এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া

মহসিন আলী

নভেম্বর ২৩, ২০২৫, ০৯:৩১ পিএম

গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে এএসপি, এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া

ছবি-দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) শাহিনুর ইসলামের ভূরিভোজে অংশ নেওয়ার ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হলে রবিবার সেই আওয়ামী লীগ নেতাকে আটক করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

তবে সচেতন মহল মনে করছেন, এএসপিকে বাঁচাতে এই ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে।ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে।

ফুলবাড়ী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিনুর ইসলাম সরকারি কাজে ব্যবহৃত পুলিশের গাড়ি ও তার দেহরক্ষীকে নিয়ে হরিরামপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নুর মোহাম্মদ-এর বাড়িতে আয়োজিত এক জমকালো ভূরিভোজে অংশ নেন।

নুর মোহাম্মদ তার ছেলের সংবর্ধনা উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন।আওয়ামী লীগ নেতা আটক: ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর রবিবার (২৩ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশ আওয়ামী লীগ নেতা নুর মোহাম্মদকে আটক করে। পরে বিকেল সাড়ে ৩টায় তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।পার্বতীপুর মডেল থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আওয়ামী লীগ নেতা নুর মোহাম্মদকে আটক করা হয়েছে। তবে তিনি এএসপি’র ভূরিভোজের বিষয়টি অবগত নন বলে উল্লেখ করেন।

এএসপি'র অস্বীকার ও বিরোধী দলের অভিযোগ: আওয়ামী লীগ নেতা নুর মোহাম্মদের বাড়িতে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি ও অনুষ্ঠান পরিচালনাকারী লুৎফর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, এএসপি শাহিনুর ইসলাম প্রায় দুই ঘণ্টারও বেশি সময় সেখানে অবস্থান করেন।অন্যদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিনুর ইসলাম মুঠোফোনে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, তিনি মধ্যপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। তবে নুর মোহাম্মদের বাড়িতে যাওয়ার ভিডিও থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হলে তিনি কল কেটে দেন।

উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আতিকুর রহমান স্বপন অভিযোগ করেন, "যে মুহূর্তে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঘাপটি মেরে বসে থেকে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে, সেই মুহূর্তে একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদধারী আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে গিয়ে ভূরিভোজের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে পুনরায় জাগ্রত করার পায়তারা করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হোক।

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম বাবুও একই আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, "২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পরও এখনো কেউ কেউ আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে। একজন পদধারী আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে গিয়ে এএসপি’র ভূরিভোজ করাটা আমার বোধগম্য নয়। এসব পুলিশ কর্মকর্তার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ আবারও মাঠে ফেরার আশঙ্কা করছি আমরা।"