রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বীরগঞ্জে হানাদার মুক্ত দিবস আজ, স্মরণ করা হচ্ছে শহীদদের

মো. ফরহাদ হোসেন

ডিসেম্বর ৬, ২০২৫, ১০:৪৫ এএম

বীরগঞ্জে হানাদার মুক্ত দিবস আজ, স্মরণ করা হচ্ছে শহীদদের

ছবি-দিনাজপুর টিভি

আজ ৬ ডিসেম্বর। স্বাধীনতার ইতিহাসের পাতায় একটি গৌরবোজ্জ্বল দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দখল থেকে মুক্ত হয়েছিল দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলা। রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম আর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে এই দিনে বীরগঞ্জের আকাশে উড়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা।

ঠাকুরগাঁও ৩ ডিসেম্বর শত্রুমুক্ত হওয়ার পর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সৈয়দপুরের দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু তাদের এই পথ সহজ ছিল না।

বীরগঞ্জে প্রবেশের আগেই মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়ে তারা।ভাতগাঁও ব্রিজের পূর্বপ্রান্তে শুরু হয় ভয়াবহ সম্মুখযুদ্ধ।

গোলাগুলির তীব্রতায় ব্রিজের একাংশ ভেঙে পড়ে। এই যুদ্ধে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর বেশ কয়েকজন বীর যোদ্ধা শহীদ হন, যাদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল বীরগঞ্জের মাটি।৬ নম্বর সেক্টরের বীর সেনারা এই যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। লে. কর্নেল কাজী নুরুজ্জামানের অধীনে হাবিলদার মোস্তাফিজুর রহমান সরাসরি বীরগঞ্জ–খানসামার যুদ্ধ পরিচালনা করছিলেন।৫ ডিসেম্বর বিকেল ৪টার পর আকাশে মিত্রবাহিনীর যুদ্ধবিমানের আনাগোনা শুরু হয়। বোমার শব্দে চারদিক কেঁপে উঠলে হানাদারদের মনোবল ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। সেদিন রাতেই বীরগঞ্জ পুরোপুরি মুক্ত হয় পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকারদের দখল থেকে।

পরদিন সকালে বীরগঞ্জের প্রতিটি অলি-গলিতে স্বাধীন বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উড়তে দেখে স্থানীয়দের মাঝে আনন্দের অশ্রু ঝরে।ত্যাগের অধ্যায়:মুক্তির এই গল্পে জড়িয়ে আছে অনেক শহীদের নাম। সম্মুখযুদ্ধে প্রাণ দিয়েছিলেন ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান বীরগঞ্জ শাখার গার্ড মো. মহসিন আলী এবং শীতলাই গ্রামের মো. আবদুর রাজ্জাক। এছাড়াও বীরগঞ্জের আরও তিন বীর সন্তান বুধারু বর্মন, রমেন সেন ও মতিলাল বর্মনের রক্তে রচিত হয়েছে বীরগঞ্জের মুক্তির ইতিহাস।

সময়ের স্রোতে এই ইতিহাস কিছুটা ঝাপসা হলেও, ২০০৮ সালে স্থানীয় সাংবাদিক মো. আব্দুর রাজ্জাক এই ইতিহাস আবার জনসম্মুখে নিয়ে আসেন। তিনি উপজেলা প্রশাসনের সভায় ৬ ডিসেম্বরকে আনুষ্ঠানিকভাবে 'বীরগঞ্জ হানাদার মুক্ত দিবস' হিসেবে পালনের দাবি তোলেন। তৎকালীন ইউএনও মো. হাসান মারুফ সেই দাবিটি গ্রহণ করেন এবং সিদ্ধান্ত হয় বীরগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরি দিবসটি পালন করবে।সেই থেকে ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে পালিত হয় "বীরগঞ্জ হানাদার মুক্ত দিবস"। প্রতি বছর আজকের দিনে বীরগঞ্জের মানুষ তাদের শহীদদের ত্যাগ ও বীরত্বকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে।