মো: মামুনুর রশিদ
জানুয়ারি ৬, ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম
ছবি-দিনাজপুর টিভি
দিনাজপুরের ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন ৬ জানুয়ারি। ১৯৭২ সালের এই দিনে বিজয়ের আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়েছিল দিনাজপুর শহরের মহারাজা গিরিজানাথ হাই স্কুল মাঠে। মাইন বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছিলেন কয়েকশ বীর মুক্তিযোদ্ধা।
সেই শোকাবহ স্মৃতি নিয়ে আজ (মঙ্গলবার) যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে ‘মহারাজা স্কুল ট্রাজেডি দিবস।
দিবসটি উপলক্ষে ‘৬ জানুয়ারি স্মৃতি পরিষদ’-এর উদ্যোগে সকালে চেহেল গাজী মাজার প্রাঙ্গণে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে শহীদদের গণকবর জিয়ারত ও তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
এরপর মহারাজা গিরিজানাথ হাই স্কুল প্রাঙ্গণে স্থাপিত স্মৃতিফলকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মুক্তিযোদ্ধা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।বেলা ১১টায় দিনাজপুর প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিকুল হক ছুটুর সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নেতা সুলতান কামাল উদ্দিন বাচ্চুসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার মাত্র ২২ দিনের মাথায় এমন মর্মান্তিক ঘটনা বিশ্ব ইতিহাসে বিরল।
শত্রুসেনাদের পুঁতে রাখা মাইন উদ্ধার করে জড়ো করার সময় ঘটে যাওয়া সেই বিস্ফোরণ নিমিষেই ৮০০ মুক্তিযোদ্ধার ক্যাম্পকে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছিল। বক্তারা নতুন প্রজন্মের কাছে এই বীরত্বগাথা ও করুণ ইতিহাস পৌঁছে দিতে মহারাজা স্কুল ট্রাজেডির ঘটনা পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান।