সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

দিনাজপুরে গণঅধিকারের ১৮ কর্মীর জামায়াতে যোগদান

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ১৪, ২০২৬, ১১:৩৪ এএম

দিনাজপুরে গণঅধিকারের ১৮ কর্মীর জামায়াতে যোগদান

দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন মেরুকরণ লক্ষ্য করা গেছে। গণঅধিকার পরিষদের ১৮ জন সক্রিয় নেতাকর্মী তাদের পুরনো দল ত্যাগ করে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন। গত মঙ্গলবার রাতে কাহারোল উপজেলার ১নং ডাবোর ইউনিয়নের জয়নন্দ বাজারে অবস্থিত ইউনিয়ন জামায়াত কার্যালয়ে এই যোগদান অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।

 সেখানে আগত নেতাকর্মীরা জামায়াতের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দলটির সহযোগী সদস্য ফরম পূরণ করেন এবং দেশের চলমান রাজনীতিতে জামায়াতের সাথে পথ চলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

এখানে একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো এই যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ–কাহারোল) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মতিউর রহমান। তার উপস্থিতিতেই ডাবোর ইউনিয়ন গণঅধিকার পরিষদের শীর্ষ নেতারা দল ত্যাগ করেন। 

উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তরিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন স্তরের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। যোগদানকারী ১৮ জন সদস্যকে জামায়াতের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে এবং গলায় মাল্যদানের মাধ্যমে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।রাজনৈতিক দলবদল নিয়ে গণঅধিকার পরিষদ দিনাজপুর জেলা শাখার সহ-সভাপতি সেলিম রেজা একটি তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান যে গণঅধিকার পরিষদ সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষার কথা ভুলে গিয়ে ধানের শীষের ওপর ভর করেছে যা তাদের মতো তৃণমূল নেতাকর্মীদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

 সেলিম রেজা অভিযোগ করে বলেন যে নূর এবং রাশেদ ভাই তৃণমূলের কর্মীদের মনের অবস্থা না বুঝে নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থে ধানের শীষের হাল ধরেছেন। এমন একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে বিব্রত হয়েই তারা বিকল্প হিসেবে জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিয়েছেন বলে জানান তিনি।আসলে এই যোগদানের তালিকায় গণঅধিকার পরিষদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল ব্যক্তি রয়েছেন। তালিকায় ডাবোর ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক মুরশেদ আলি এবং সভাপতি জয়দেব রায়ের মতো নেতারাও আছেন। 

এছাড়া প্রচার সম্পাদক সোহেল রানা এবং ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মামুনুর রশিদসহ কার্যকরী কমিটির আরও বেশ কয়েকজন সদস্য জামায়াতের পতাকাতলে এসেছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন দিনাজপুরের এই আসনটিতে আসন্ন নির্বাচনের আগে এমন দলবদল জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক শক্তিকে আরও মজবুত করবে। অন্যদিকে এটি গণঅধিকার পরিষদের স্থানীয় নেতৃত্বে একটি বড় ধরণের শূন্যতা তৈরি করতে পারে।