এপ্রিল ২, ২০২৬, ০৭:১১ পিএম
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের বাজারে বিরাজমান অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে সীমান্ত এলাকায় তেলের অবৈধ মজুত ও পাচার রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিকে পুঁজি করে এক শ্রেণির চোরাকারবারী সীমান্ত দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে তেল পাচারের চেষ্টা করছে।
এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা এবং জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দিনাজপুর জেলার সীমান্তজুড়ে টহল, তল্লাশি এবং গোয়েন্দা নজরদারি কার্যক্রম কয়েকগুণ জোরদার করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, বাংলাদেশ থেকে ভারতে জ্বালানি তেল পাচার প্রতিরোধে দিনাজপুরে ৪২ বিজিবির অধীনে থাকা ৭টি বিওপিসহ মোট ২৯টি বিওপি এবং ৫টি বিশেষ ক্যাম্প থেকে নিয়মিত ও অতিরিক্ত বিশেষ টহল পরিচালনা করা হচ্ছে।
চোরাকারবারীরা যেন বিশেষ কৌশল অবলম্বন করে ছোট বোতল বা জারকিনের মাধ্যমে পেট্রোল ও অকটেন কোনোভাবেই পাচার করতে না পারে, সেজন্য বিজিবি সদস্যরা সীমান্তে সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন। বিশেষ করে রাতে ও ভোরে সীমান্ত এলাকায় জনচলাচলের ওপর কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হচ্ছে।সীমান্তবর্তী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে যানবাহন ও পথচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও পাচার রুখতে কেবল প্রকাশ্য টহলই নয়, বরং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে। বিজিবি মনে করে, বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের সংকট রোধে পাচার ঠেকানো একটি অপরিহার্য চ্যালেঞ্জ, যা মোকাবেলায় তারা শতভাগ আপোসহীন অবস্থানে রয়েছে।
এ বিষয়ে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, দেশের সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সম্পদ পাচার রোধে বিজিবি সদস্যরা সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব। বিজিবির এই কঠোর অবস্থান ও টহল কার্যক্রমের ফলে সীমান্তে চোরাচালানীদের তৎপরতা অনেকাংশে স্তিমিত হয়ে পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

একইসাথে বিজিবির পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে কোনো প্রকার গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় জ্বালানি সংক্রান্ত কোনো প্রকার সন্দেহজনক কার্যক্রম যেমন—বেআইনিভাবে তেলের ড্রাম বা জারকিন পরিবহন করতে দেখা গেলে তা অবিলম্বে নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প বা বিওপিতে অবহিত করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। জাতীয় অর্থনীতি সুরক্ষায় বিজিবির এই তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন