জাবেদ হোসেন
জানুয়ারি ২১, ২০২৬, ১০:৪২ এএম
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এখন অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে রপ্তানি খাতের পরই এর অবস্থান। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, ভোক্তা ব্যয় বৃদ্ধি এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রেমিট্যান্সের ভূমিকা অপরিসীম।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বার্ষিক রেমিট্যান্স প্রবাহ গড়ে ২১ থেকে ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে অবস্থান করছে আমদানি-নির্ভর অর্থনীতির দেশ হিসেবে জ্বালানি।
খাদ্যপণ্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে প্রয়োজনীয় ডলারের জোগান দিতে রেমিট্যান্স বড় ভূমিকা রাখছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ স্থিতিশীল থাকলে রিজার্ভের ওপর চাপ কমে এবং টাকার বিনিময় হার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকে।
অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের সরাসরি প্রভাব দৃশ্যমান হয় তৃণমূল পর্যায়ে। প্রবাসী আয়ের বড় অংশ সরাসরি পরিবারের হাতে পৌঁছানোর ফলে গ্রামীণ ও আধা-শহরাঞ্চলের অর্থনীতি সচল থাকে। পরিবারগুলো শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গৃহনির্মাণে ব্যয় করায় স্থানীয় বাজারে নগদ অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি পায়।বৈধ পথে রেমিট্যান্স উৎসাহিত করতে সরকার বর্তমানে ২.৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা প্রদান করছে। এর ফলে হুন্ডির মতো অবৈধ পথের ঝুঁকি কমেছে এবং ব্যাংকিং খাতে তারল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বৈশ্বিক মন্দা, দক্ষ শ্রমিকের অভাব এবং মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারের পরিবর্তন এই খাতের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, দক্ষ শ্রমিক বিদেশে পাঠানো এবং নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান করা গেলে রেমিট্যান্সের সুফল আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে এই আয়কে উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা গেলে তা দীর্ঘমেয়াদে দেশের শিল্পায়ন ও প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কার্যকর নীতি ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই কেবল রেমিট্যান্স প্রবাহকে টেকসই রাখা সম্ভব।