রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬,

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে ১০ শতাংশ বাড়ল

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ১, ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে ১০ শতাংশ বাড়ল

ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে বড় ধরনের দুঃসংবাদ এসেছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এক লাফে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধাবস্থা শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা দেখা দেয়। রোববার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে বিশ্ববাজারের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম বর্তমানে ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারে পৌঁছেছে। গত শুক্রবার এই তেলের দাম ছিল ৭৩ ডলার যা জুলাই মাসের পর সর্বোচ্চ অবস্থান ছিল। 

সাপ্তাহিক ছুটির কারণে ফিউচারস লেনদেন বন্ধ থাকলেও ওভার-দ্য-কাউন্টার লেনদেনে এই ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ করা গেছে। জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে এই দাম বৃদ্ধির মূল কারণ হলো পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা।

বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশেরও বেশি এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে সম্পন্ন হয়। তেহরানের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দেওয়ার পর ইতোমধ্যে বেশিরভাগ ট্যাঙ্কার মালিক ও তেল কোম্পানি ওই পথ দিয়ে অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি পরিবহন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অজয় পারমার জানিয়েছেন যে যদি এই প্রণালী দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ থাকে তবে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। সামরিক হামলার সরাসরি প্রভাবের চেয়েও সরবরাহ ব্যবস্থার এই সংকট বাজারের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস আগামী এপ্রিল থেকে দৈনিক ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেও তা বৈশ্বিক চাহিদার তুলনায় খুবই সামান্য। নরওয়ে-ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রেস্টার্ড এনার্জির বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হলে তেলের দাম শীঘ্রই ৯২ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে দৈনিক ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের ঘাটতি তৈরি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।