এপ্রিল ৩, ২০২৬, ০২:৩২ পিএম
রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে সপ্তাহের ব্যবধানে ফের অস্থিরতা শুরু হয়েছে। শুক্রবার সকালে বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে প্রায় সব ধরণের সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন ঈদের ছুটির পর রাজধানীতে মানুষের আনাগোনা বাড়ায় চাহিদাও বেড়েছে। এর ফলে বেগুন, শিম বা পটলের মতো সাধারণ সবজিও এখন ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েকদিন আগেও এসব সবজি ৬০ টাকার আশেপাশে পাওয়া যেত।
বাজারের চিত্র পর্যালোচনায় দেখা যায় করলা, ঝিঙ্গা এবং চিচিঙ্গার মতো সবজিগুলো এখন সেঞ্চুরি পার করে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ঢেঁড়স এবং বরবটির দামও ১০০ টাকার ঘরে পৌঁছেছে।
সরবরাহ সংকটের অজুহাতে বিক্রেতারা এই বাড়তি দাম নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। তাদের মতে বাজারে সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও স্রেফ চাহিদার দোহাই দিয়ে দাম বাড়ানো হচ্ছে যা সাধারণ মানুষের পকেটে টান দিচ্ছে।
সবজির পাশাপাশি মুরগির বাজারেও অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিশেষ করে সোনালি এবং দেশি মুরগির দাম এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বাজারে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৪৪০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে। দেশি মুরগির দাম চাওয়া হচ্ছে সাড়ে সাতশ থেকে আটশ টাকা। তবে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে ব্রয়লার মুরগির দামে। ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা কেজি দরে ব্রয়লার মুরগি পাওয়া যাচ্ছে যা গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন মূলত জ্বালানি সংকটের কারণে মুরগির সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরণের ব্যাঘাত ঘটছে। পরিবহন খরচ বাড়ার পাশাপাশি মুরগির ফিডের উচ্চমূল্যের কারণে অনেক খামারি উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছেন। এর ফলে বাজারে বড় ধরণের প্রভাব পড়েছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষরা বলছেন উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সময়ে বাজারদরের এমন অস্বাভাবিক বৃদ্ধি তাদের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলছে। সিন্ডিকেট বা অসাধু চক্রের কারসাজি খতিয়ে দেখার জন্য তারা প্রশাসনের নিয়মিত তদারকির দাবি জানিয়েছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন