শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সবজির সরবরাহ বাড়লেও অস্বস্তি, চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ ও ডিম

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ১৫, ২০২৬, ০২:৫৮ পিএম

সবজির সরবরাহ বাড়লেও অস্বস্তি, চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ ও ডিম

রাজধানীর বাজারে গ্রীষ্মকালীন সবজির সরবরাহ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। তবে বাজারে মালপত্র বেশি থাকলেও সাধারণ ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির কোনো খবর নেই। শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও আগারগাঁও বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহজুড়ে অধিকাংশ সবজির দাম প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। সরবরাহ বৃদ্ধির যে ইতিবাচক প্রভাব সাধারণ মানুষের পকেটে পড়ার কথা ছিল, তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি।

এক ডজন মুরগির লাল ডিম এখন ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।অথচ গত সপ্তাহে এই এক ডজন ডিমের দাম ছিল ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। সাত দিনের ব্যবধানে ডিমের দামে এই অস্বাভাবিক উল্লম্ফন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। 

শুধু ডিম নয়, নতুন করে বেড়েছে পেঁয়াজের ঝাঁজও। দেশি পেঁয়াজ কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে এখন প্রকারভেদে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, মজুত ও সরবরাহের ঘাটতি না থাকলেও পাইকারি পর্যায়ে দাম বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব খুচরা বাজারে পড়েছে।

তবে মুরগির বাজারে কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। সোনালি কক মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। এখন এটি ৩২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। সোনালি হাইব্রিড মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়। লাল লেয়ার ৩০০ টাকা ও সাদা লেয়ার ২৯০ টাকা কেজি দরে কেনাবেচা চলছে। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা কমে ১৭০ টাকায় নেমে এসেছে। যদিও দেশি মুরগির দাম এখনো চড়া, প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকায়। গরুর মাংস আগের মতোই ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২০০ টাকা কেজি দরে স্থিতিশীল রয়েছে।

সবজির বাজার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, করলা কেজিতে ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং পটল প্রকারভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গ্রীষ্মের সবজি ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা ও বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকায় মিলছে। কচুরমুখী ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চিচিঙ্গা ও ধুন্দল পাওয়া যাচ্ছে ৫০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে। তবে সজিনার দাম এখনো সাধারণের নাগালের বাইরে, প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। কাঁচামরিচ কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে এখন ১০০ থেকে ১৪০ টাকায় উঠেছে। পেঁপে ৭০ টাকা ও মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকায় বিক্রি হলেও লেবুর হালি গুণতে হচ্ছে ১০ থেকে ৩০ টাকা।

মাছের বাজারে ইলিশের দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে বরাবরের মতোই অসন্তোষ রয়েছে। ৩০০ গ্রাম ওজনের এক কেজি ইলিশ ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা এবং বড় আকারের ইলিশ ২০০০ থেকে ২২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। রুই মাছের দাম আকারভেদে ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। চাষের পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। দেশি শিং মাছের কেজি ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা এবং মলা মাছ ৫০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া সবজি বাজারে শাকের আঁটি ১৫ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। শীতকালীন কিছু সবজি যেমন টমেটো ও গাজর এখনো ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে।