নভেম্বর ১৬, ২০২৫, ১০:১৬ এএম
কয়েক দফা পিছিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে। গতকাল শনিবার নাটোরের গুরুদাসপুরের খুবজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
সরকার পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা নিয়েছে।
এই ফিডিং কর্মসূচির আওতায় ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ১৫০টি উপজেলার ১৯ হাজার ৪১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ৩১ লাখ ১৩ হাজার শিক্ষার্থী সপ্তাহে পাঁচ দিন পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার পাবে। এই খাদ্যতালিকায় রয়েছে ফর্টিফায়েড বিস্কুট, কলা বা মৌসুমি ফল, বনরুটি, ডিম এবং ইউএইচটি দুধ।
এই কর্মসূচির মোট বাজেট হিসেবে পাঁচ হাজার ৪৫২ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ৯৭ শতাংশ ব্যয়ই খাদ্য সরবরাহের জন্য নির্ধারিত।কর্মসূচির উদ্বোধনকালে গণশিক্ষা উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়নে এই ফিডিং কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এছাড়া, এটি শিশুদের পুষ্টির অভাব দূরীকরণ ও বিদ্যালয় চলাকালে স্বল্পকালীন ক্ষুধা দূরীকরণেও সহায়ক হবে। এর ফলে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা পড়ালেখায় আরও মনোযোগী হবে এবং বিদ্যালয়ে আসতে আগ্রহী হবে।
সরকার ও প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে বিদ্যালয়ে শিশুদের উপস্থিতির হার শতকরা ৮০ ভাগের বেশি হবে এবং ঝরেপড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। এছাড়া, প্রতি বছর শতকরা ১০ ভাগের বেশি হিসেবে বিদ্যালয়ে প্রকৃত ভর্তির হার বৃদ্ধি পাবে এবং বিদ্যালয়ে শিশুদের ধরে রাখার হার অন্তত ৯৯ শতাংশে উন্নীত হবে বলে তারা আশা করছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান, নাটোরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আরিফ হোসেনসহ ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের বাংলাদেশের প্রতিনিধি ডোমেনিকো স্কালপেলি উপস্থিত ছিলেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন