ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫, ১২:১৭ পিএম
বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য ১১টি নির্দিষ্ট পেশায় যুক্ত হওয়া নিষিদ্ধ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। নতুন এমপিও নীতিমালা-২০২৫ অনুযায়ী, কোনো শিক্ষক শিক্ষকতার পাশাপাশি অন্য কোনো আর্থিক লাভজনক পেশায় নিয়োজিত থাকতে পারবেন না।
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে এ সংক্রান্ত একটি নোটিশ উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুজ্জামান জানান, মাউশির নির্দেশনা অমান্য করলে এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।নির্দেশনা অনুযায়ী এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা যেসব কাজে যুক্ত হতে পারবেন না: ১. বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সাংবাদিকতা।
২. আইন পেশা (ওকালতি)। ৩. কোচিং সেন্টার পরিচালনা বা সেখানে শিক্ষকতা। ৪. প্রাইভেট বা কেজি স্কুল পরিচালনা। ৫. শিক্ষাবিষয়ক প্রকাশনা বা পাবলিকেশন ব্যবসা। ৬. হজ এজেন্ট বা এর বিপণন কার্যক্রম। ৭. বিয়ের কাজী বা ঘটকালী। ৮. টং দোকান বা ক্ষুদ্র ব্যবসা। ৯. ঠিকাদারি বা নির্মাণ ব্যবসা। ১০. মসজিদের পূর্ণকালীন ইমামতি বা খতিবের দায়িত্ব (যা শিক্ষকতার সময়কে প্রভাবিত করে)। ১১. কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিশেষ সহকারী বা চাটুকার হিসেবে নিয়োজিত থাকা।
চলতি মাসের ৭ ডিসেম্বর প্রকাশিত নতুন এমপিও নীতিমালার ১১.১৭ (ক) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষক-কর্মচারী একাধিক চাকরি বা অন্য কোনো আর্থিক লাভজনক পেশায় যুক্ত থাকতে পারবেন না। তদন্তে এটি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির এমপিও বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।১১.১৭ (খ) ধারায় ‘আর্থিক লাভজনক পেশা’ বলতে বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান, সাংবাদিকতা বা আইন পেশায় কর্মের বিনিময়ে প্রাপ্ত বেতন, ভাতা বা সম্মানীকে বোঝানো হয়েছে।
তবে শিক্ষকরা চাইলে স্বেচ্ছাশ্রমে ধর্মীয় বা সামাজিক কাজে যুক্ত থাকতে পারবেন, তবে তা অবশ্যই এমনভাবে হতে হবে যেন মূল পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে।শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষকরা যেহেতু রাষ্ট্রীয় আর্থিক সুবিধা (এমপিও) পান, তাই তাদের পূর্ণকালীন শ্রম ও মনোযোগ নিশ্চিত করতেই এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন