বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬,

মধ্যরাতে গাঁজা সেবনকালে ঢাবির হল থেকে ছাত্রদল কর্মীসহ আটক চার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ১৬, ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম

মধ্যরাতে গাঁজা সেবনকালে ঢাবির হল থেকে ছাত্রদল কর্মীসহ আটক চার

শেখ মুজিবুর রহমান হলে গাজা সেবন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শেখ মুজিবুর রহমান হলের (প্রস্তাবিত শহিদ ওসমান হাদী হল) পুরাতন ভবনের ছাদে মধ্যরাতে গাঁজা সেবনকালে ছাত্রদল কর্মীসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ২টার দিকে হলের ছাদে মাদক সেবনের প্রস্তুতিকালে তাদের হাতেনাতে ধরেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা ও হল সংসদ। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রক্টোরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে এসে তাদের হেফাজতে নেয়।

 আটককৃতদের কাছ থেকে তামাক পাতা, গাঁজা ও কল্কিসহ মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও ছাত্র রাজনীতির অন্দরে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

আটককৃতদের মধ্যে দুজন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের নিয়মিত শিক্ষার্থী। তারা হলেন সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমান এবং অর্থনীতি বিভাগের ২০২৩–২৪ সেশনের শিক্ষার্থী তানবীন আহমেদ (আহমেদ আনিম)। 

তানবীন ছাত্রদল রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত বলে জানা গেছে। তিনি ক্যাম্পাসে বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আল হাদী মায়েদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। আটককৃত অপর দুজন বহিরাগত যারা ডেমরা এলাকায় থাকেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। তাদের নাম সামিউল ও রাকিব। গভীর রাতে বহিরাগতদের নিয়ে হলের ছাদে এই মাদক সেবনের ঘটনা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।ঘটনার বিবরণে জানা যায় হল সংসদের ভিপি মুসলিমুর রহমান এবং এজিএস মুশফিক তাজওয়ার মাহি হলের পুরাতন ভবনের ছাদে সন্দেহজনক চলাফেরা দেখতে পান। 

 

তারা দ্রুত কিছু শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে ছাদে যান এবং সেখানে চারজনকে গাঁজা সেবনের প্রস্তুতি নিতে দেখেন।প্রথমে শিক্ষার্থীরা তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা অসংলগ্ন কথা বলেন। পরবর্তীতে প্রক্টোরিয়াল টিমকে খবর দেওয়া হলে তারা এসে উদ্ধার হওয়া সরঞ্জামসহ চারজনকে আটক করে। এজিএস মুশফিক তাজওয়ার জানান তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি। এক হলের শিক্ষার্থী হয়ে অন্য হলের ছাদে বহিরাগত নিয়ে এমন কাজ অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন প্রক্টোরিয়াল টিম বিষয়টি তদন্ত করছে এবং হল প্রশাসনের সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী বহিরাগতদের থানায় সোপর্দ করা এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক বহিষ্কারসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিধান রয়েছে। আটককৃত শিক্ষার্থী তানবীন প্রথমে মাদক সরঞ্জাম নিজের বলে অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে প্রমাণের মুখে তা স্বীকার করেন। ঢাবি ক্যাম্পাসকে মাদক মুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চলবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।