সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

হাবিপ্রবিতে রঙিন ঘুড়ি উৎসবে মাতলেন শিক্ষার্থীরা

মোঃ রাহাত হোসেন

এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ১০:৩০ পিএম

হাবিপ্রবিতে রঙিন ঘুড়ি উৎসবে মাতলেন শিক্ষার্থীরা

হাবিপ্রবিতে ঘুড়ি উৎসব ছবি-দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ সোমবার বিকেলে এক বর্ণিল উৎসবে পরিণত হয়েছিল। গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে হাবিপ্রবিতে ঘুড়ি উৎসব ২.০-এর আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডভেঞ্চার ক্লাবের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। 

পড়াশোনার চাপের মাঝেও কিছুটা সময় আনন্দের সঙ্গে কাটাতে হাজারো শিক্ষার্থীর সমাগম ঘটে বিজয় ২৪ হল সংলগ্ন মাঠে।বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শুরু হওয়া এই উৎসবে নীল আকাশে ডানা মেলে হরেক রকমের রঙিন ঘুড়ি। 

লাল, নীল, সবুজ ও হলুদ রঙের বাহারি নকশার ঘুড়িতে ছেয়ে যায় পুরো আকাশ। উৎসবের সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরো ক্যাম্পাস রূপ নেয় এক অনন্য মিলনমেলায়। বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বিজয় ২৪ হল মাঠ যেন এক খণ্ড উৎসবে পরিণত হয়। কেউ লাটাই হাতে সুতো ছাড়তে ব্যস্ত, কেউ আবার বন্ধুদের সাথে ঘুড়ি কাটাকাটির খেলায় মত্ত।

উৎসবে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানান যে, যান্ত্রিক জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে এমন আয়োজন অত্যন্ত ফলপ্রসূ। তারা বলেন, ছোটবেলার সেই গ্রামে ঘুড়ি ওড়ানোর স্মৃতিগুলো হাবিপ্রবিতে ঘুড়ি উৎসব আয়োজনের মাধ্যমে নতুন করে ফিরে এসেছে। নিয়মিত এ ধরনের অনুষ্ঠান হলে শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ আরও দৃঢ় হবে। কেবল বিনোদনের জন্যই নয়, শেকড়ের সংস্কৃতির সঙ্গে বর্তমান প্রজন্মের মেলবন্ধন ঘটাতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

হাবিপ্রবি অ্যাডভেঞ্চার ক্লাবের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ সাকিব জানান, বাঙালির লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতেই তারা দ্বিতীয়বারের মতো এই উৎসবের আয়োজন করেছেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্প্রীতি ও নির্মল আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই তাদের এই ক্ষুদ্র চেষ্টা। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এবং বৈচিত্র্যময় আঙ্গিকে এই উৎসব পালন করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

উৎসবের সমাপ্তি লগ্নেও শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাসে কোনো ভাটা পড়েনি। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার আগ পর্যন্ত মুখর ছিল পুরো প্রাঙ্গণ। শিক্ষার্থীদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, শেকড়ের টান আজও তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে অমলিন। হাবিপ্রবির এই ঘুড়ি উৎসব যেন মুহূর্তের জন্য সবাইকে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল শৈশবের সেই হারানো দিনগুলোতে।