মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

শাহবাগ থানায় হামলার নিন্দা জানালেন ডাকসু জিএস ফরহাদ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ১১:২৬ পিএম

শাহবাগ থানায় হামলার নিন্দা জানালেন ডাকসু জিএস ফরহাদ

এস এম ফরহাদ

রাজধানীর শাহবাগ থানায় ঢুকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ‘মব’ সৃষ্টি করা এবং সেখানে দায়িত্বরত পুলিশের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ। বৃহস্পতিবার ২৩ এপ্রিল রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান। 

ফরহাদ অভিযোগ করেন যে, হামলার সময় পুলিশ কেবল নীরব দর্শক হয়ে পরিস্থিতি উপভোগ করেছে, যা আধুনিক সাংবাদিকতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং স্পষ্টতই ফ্যাসিবাদী আচরণের লক্ষণ।

এস এম ফরহাদ বলেন, একটি ভুয়া ফটোকার্ডকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কোনো আইনি প্রক্রিয়ায় না গিয়ে সরাসরি থানায় গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। সেখানে অবস্থানরত ডাকসু নেতা মুকাদ্দিস ও জুবায়েরসহ উপস্থিত সকলের ওপর নগ্ন হামলা চালানো হয়েছে। 

তিনি পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, থানায় হামলা ও মারধর চললেও পুলিশ জিডি গ্রহণ না করে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করিয়েছে এবং দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করেছে। পুলিশের এমন আচরণকে তিনি ‘এনজয়’ করা বা আনন্দ নেওয়া বলে মন্তব্য করেন। ফরহাদের প্রশ্ন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মদত ছাড়া ছাত্রদল এভাবে থানায় চড়াও হওয়ার সাহস পায় কী করে।এই বিক্ষোভ সমাবেশে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমও ছাত্রদলের এমন কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান। 

তিনি বলেন, থানার ভেতরে ঢুকে ডাকসু নেতাদের ওপর হামলা চালিয়ে ছাত্রদল রাজনীতির ইতিহাসে এক ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্ম দিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আর কোনো প্রকার পেশীশক্তির রাজনীতি বা সন্ত্রাসবাদ মেনে নেওয়া হবে না বলে তিনি সাফ হুঁশিয়ারি দেন। গণতান্ত্রিক পরিবেশে এ ধরনের অরাজকতা কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শাহবাগ থানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের দুই নেতা এ বি জুবায়ের ও মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদের ওপর হামলা চালান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। থানার ভেতরেই তাদের অবরুদ্ধ করে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাত ৮টার দিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক জুবায়ের ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দিক ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা কয়েক দফায় আক্রমণের শিকার হন। এ সময় ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সাইয়েদুজ্জামান নূর আলভিও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শাহবাগ থানার মতো সুরক্ষিত স্থানে এমন হামলার ঘটনা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য একটি বড় ধরনের সংকেত। ডাকসু নেতাদের ওপর হামলার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো জোরালো পদক্ষেপ বা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।