সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি রাখা এবং পরবর্তী ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ডাকসু ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক আনুষ্ঠানিক মতবিনিময়কালে তিনি এ বিষয়ে নিজস্ব বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, সংগ্রহশালা থেকে ছবি সরানোর দাবি তুলে ছাত্রদল মূলত জিন্নাহকে ঐতিহাসিক দায় থেকে নিষ্কৃতি দিতে চাইছে।
ক্যাম্পাসে এখন পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক বিতর্ক। সংগ্রহশালায় ছবি স্থাপনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্পষ্ট করে ডাকসুর জিএস বলেন, বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে জিন্নাহর সরাসরি শত্রুভাবাপন্ন অবস্থানের কারণেই সেই নেতিবাচক ইতিহাস তুলে ধরে প্রদর্শনীতে ছবিটি রাখা হয়েছিল। তবে ছাত্রদল তাদের প্রকাশ্য বিবৃতির মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক উপস্থাপনার বিরুদ্ধাচরণ করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিষয়টি বিবেচনা করলে বোঝা যায় ছাত্রদল প্রকারান্তরে জিন্নাহর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে ইতিহাস আড়াল করার চেষ্টা করছে।
এর আগে সোমবার দুপুরে সংগ্রহশালা কক্ষে প্রবেশ করে জিন্নাহর ছবির ফ্রেম ভেঙে তা ছিঁড়ে ফেলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার। তিনি ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের উর্দু বিভাগের ছাত্র ছিলেন এবং অতীতের ডাকসু নির্বাচনে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১০ ভোট পেয়েছিলেন। এই ভাঙচুরের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে এস এম ফরহাদ মন্তব্য করেন, যিনি ছবি ভেঙেছেন তিনিও হয়তো উর্দু বিভাগের সংশ্লিষ্টতার কারণে কোনো সহানুভূতি থেকে এটি ঘটিয়েছেন।
ডাকসুর জিএস আরও যোগ করেন, প্রদর্শিত ছবির নিচের বিবরণে জিন্নাহর উর্দুপন্থী অবস্থানের স্পষ্ট বিবরণ ছিল। ভাঙচুরকারী হয়তো বাংলাভাষী মানুষ যাতে জিন্নাহর সেই চরম বিদ্বেষপূর্ণ ভূমিকা না জানতে পারে, সেই উদ্দেশ্যেই প্রদর্শনীতে আঘাত হেনেছেন এবং তিনিও আদতে জিন্নাহর পক্ষে কাজ করেছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন