এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ১২:১৩ এএম
রাজধানীর বাড্ডায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার বিকেলে নিহত মিমোর বাবা বাড্ডা থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করার পর এই শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মো. নাসিরুল আমিন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় তাকে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে।
পুলিশ ও বিভাগীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে বাড্ডার নিজ বাসায় মিমোর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে সহপাঠী ও শিক্ষকরা সেখানে ভিড় করেন। বিভাগের চেয়ারপারসন কাজী তামান্না হক সিগমা জানান, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে তারা এই মর্মান্তিক সংবাদটি পান।
ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতে লেখা চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে যেখানে শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তীর সঙ্গে মিমোর ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতা এবং মানসিক চাপের ইঙ্গিত রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। এই চিরকুটের সূত্র ধরেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তী এবং মিমোর এক সহপাঠীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে সহপাঠীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকায় তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়া হয়।নিহত মুনিরা মাহজাবিন মিমো ওই বিভাগের স্নাতকোত্তরের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন।
তাঁর এই অকাল প্রয়াণে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শোকের আবহ বিরাজ করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। বাড্ডা থানা পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত চিরকুটটি বিশেষজ্ঞ দ্বারা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে। বর্তমানে শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তীকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে তাঁকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই মামলার প্রতিটি তথ্য গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন