রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

নতুন বাজেটে স্নাতক পর্যন্ত মেয়েদের পড়াশোনা বিনামূল্যে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ১১, ২০২৬, ০২:৫০ পিএম

নতুন বাজেটে স্নাতক পর্যন্ত মেয়েদের পড়াশোনা বিনামূল্যে

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে বড় ধরনের আইনি সংস্কার ও সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় নারী শিক্ষাকে দেশজুড়ে আরও উৎসাহিত করতে মেয়েদের জন্য স্নাতক বা ডিগ্রি পর্যায় পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের একটি যুগান্তকারী প্রস্তাব করা হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে আনুষ্ঠানিক বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই সংক্রান্ত ঘোষণা দিতে পারেন।

বর্তমান সরকারের এটিই প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট হতে যাচ্ছে, যার সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবারের বাজেটে প্রান্তিক ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ সরবরাহের বিশেষ সামাজিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষার মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে একটি সুনির্দিষ্ট অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। 

একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সারা দেশে ধাপে ধাপে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মিড-ডে মিল বা দুপুরের খাবার কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। সাধারণ শিক্ষাক্রমে বড় ধরনের বৈপ্লবিক রূপান্তর আনার উদ্দেশ্যে শিক্ষা খাতে সরকারি ব্যয় ধাপে ধাপে মোট দেশজ উৎপাদনের বা জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দেশের স্কুলগুলোতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, বিনামূল্যে দ্রুতগতির ওয়াই-ফাই সুবিধা এবং শিক্ষকদের জন্য ‍‍`ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব‍‍` কর্মসূচি বাস্তবায়নের দীর্ঘমেয়াদি ছক কষা হয়েছে। এছাড়াও ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ধাপে ধাপে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার কড়া প্রস্তাব রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি তৈরির উদ্দেশ্যে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি জাপানি, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন ও জার্মানসহ একাধিক তৃতীয় ভাষা শিক্ষাক্রমে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এসব দেশগুলোতে উচ্চশিক্ষার জন্য গমনেচ্ছুদের সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিশেষ জামানতবিহীন ঋণ সুবিধা প্রদানের এক নতুন কর্মসূচিও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্তাবিত এই সব কল্যাণমুখী উদ্যোগ পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা একটি প্রগতিশীল দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতির দিকে দ্রুত এগিয়ে যাবে। তবে এই বিশাল মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা নিশ্চিত করাই সরকারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।