বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬,

নিকাব পরা শিক্ষার্থীকে হেনস্তার প্রতিবাদে ঢাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৮, ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম

নিকাব পরা শিক্ষার্থীকে হেনস্তার প্রতিবাদে ঢাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের নিকাব পরিহিত এক শিক্ষার্থীকে হেনস্তা ও সন্ত্রাসী অপবাদ দেওয়ার অভিযোগের প্রতিবাদে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পোশাকের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করার বিরুদ্ধে এই কর্মসূচি ডাকে সংগঠনটি। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। কর্মসূচি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) বরাবর সাত দফা দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি পেশ করেন সংগঠনের নেত্রীরা।

মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হিজাব কিংবা নিকাব পরা একজন শিক্ষার্থীর একান্ত ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় সাংবিধানিক অধিকার। এই মৌলিক অধিকার নিয়ে কটাক্ষ করা, মানসিক হেনস্তা চালানো কিংবা বহিষ্কারের হুমকি দেওয়া কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে সুনির্দিষ্ট একাডেমিক নীতিমালা তৈরি এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

বক্তাদের ভাষ্য, একজন শিক্ষক সবসময় শিক্ষার্থীদের আস্থার অভিভাবক হওয়ার কথা। অথচ নিছক পোশাকের কারণে শ্রেণিকক্ষে কাউকে প্রশ্নবিদ্ধ করা, ক্লাস থেকে বের করে দেওয়া কিংবা হুমকি প্রদর্শন কোনোভাবেই শিক্ষার সুস্থ পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিষয়টি নিয়ে অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কঠোর ও বাস্তবসম্মত ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তারা।

উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বারবার হিজাব ও নিকাব নিয়ে কটাক্ষ ও বৈষম্যের অভিযোগ ওঠায় গভীর উদ্বেগ জানান বক্তারা। তারা স্পষ্ট করেন, লোকদেখানো তদন্ত কমিটি গঠন করে বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করার চিরাচরিত প্রবণতা বন্ধ করে অনতিবিলম্বে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো শিক্ষক ধর্মীয় অনুভূতি বা পোশাকের ওপর আঘাত হানলে তার বিরুদ্ধে কী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার্যকর হবে, তা একাডেমিক বিধিতে দ্ব্যর্থহীনভাবে যুক্ত করার তাগিদ দেন তারা।

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আন্দোলনকারীরা উল্লেখ করেন, গণআন্দোলনের পর সবার প্রত্যাশা ছিল ক্যাম্পাসে পূর্ণ সমতা, মানবিক ন্যায্যতা ও সর্বজনীন অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। অথচ সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণেই পোশাককে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে। ধর্মীয় অধিকার ও আত্মমর্যাদার ওপর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত আঘাত ছাত্রসমাজ মুখবুজে সহ্য করবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের প্রতিনিধি সুমাইয়া ফাহমিদা, সুমাইয়া নুসরাত মিম ও তাহমিদা আকবর। এছাড়া আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি আফসানা আক্তার এবং সভানেত্রী সাবিকুন্নাহার তামান্না।

দিনাজপুর টিভি ডট কম-এর পাঠকদের জন্য উল্লেখ্য, সমাবেশ শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে উপ-উপাচার্য বরাবর আনুষ্ঠানিকভাবে সাত দফা দাবিনামা হস্তান্তর করা হয়।