সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে জানুন ইসলামে শিক্ষকের সম্মান ও মর্যাদা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৫, ২০২৫, ১২:০৪ পিএম

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে জানুন ইসলামে শিক্ষকের সম্মান ও মর্যাদা

ছবি - সংগৃহীত

আজ ৫ অক্টোবর, বিশ্ব শিক্ষক দিবস। যারা নিজেদের বিলিয়ে দিয়ে মানুষ গড়ার মতো মহান দায়িত্ব পালন করেন, সেই শিক্ষকদের প্রতি সম্মান জানানোর এই বিশেষ দিনে ইসলামে তাদের মর্যাদা কতখানি তা স্মরণ করা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। ইসলামে জ্ঞানার্জনকে ফরজ বা অবশ্যকর্তব্য করা হয়েছে এবং যিনি জ্ঞান দান করেন, সেই শিক্ষককে দেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান।

ইসলামের যাত্রা শুরুই হয়েছে ‘পাঠ করো’—এই ঐশী নির্দেশের মাধ্যমে। পবিত্র কোরআনের প্রথম নাজিল হওয়া আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, “পাঠ করো তোমার প্রভুর নামে, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন... তিনি মানুষকে তাই শিখিয়েছেন, যা সে জানত না।” (সুরা আলাক: ১-৫)। যিনি এই বাণী মানবজাতির কাছে পৌঁছে দিয়েছেন, সেই প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) নিজেই নিজের পরিচয় দিয়েছেন এই বলে: “আমাকে শিক্ষক হিসেবেই প্রেরণ করা হয়েছে।” (ইবনে মাজাহ)।

ইসলামে শিক্ষকের মর্যাদা এতটাই উচ্চে যে, মহান আল্লাহ কোরআনে প্রশ্ন রেখেছেন, “যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান হতে পারে?” (সুরা জুমার: ০৯)। এই আয়াত জ্ঞানীর সম্মানকে সুস্পষ্ট করে, আর শিক্ষক সেই জ্ঞানের বিতরণকারী হিসেবে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “কল্যাণকর বিদ্যাদানকারীর জন্য পৃথিবীর সবকিছু, এমনকি সমুদ্রের মাছ এবং গর্তের পিঁপড়া পর্যন্ত দোয়া করে।” (তিরমিজি)।

ইসলামের সোনালি যুগে জাবির ইবনু হাইয়্যান, আল-বিরুনি, ইবনু সিনা, আল খাওয়ারিজমির মতো মুসলিম মনীষীরা জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় যে অবদান রেখেছেন, তার ভিত্তি ছিল কোরআন ও সুন্নাহর এই শিক্ষাদর্শন।তবে ইসলামে সেই জ্ঞানকেই কল্যাণকর বলা হয়েছে, যা মানুষকে নৈতিক ও বিনয়ী করে তোলে এবং সৃষ্টিকর্তার প্রতি অনুগত বানায়। প্রিয় নবী (সা.) এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেছেন,

“যখন একজন সত্যপন্থী আলেমও থাকবে না, তখন লোকেরা মূর্খদের নেতা বানাবে। তারা অজ্ঞতা সত্ত্বেও সিদ্ধান্ত দেবে। ফলে তারা নিজেরা পথভ্রষ্ট হবে, অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করবে।” (বুখারি)।বিশ্ব শিক্ষক দিবসের এই ক্ষণে, শিক্ষকদের প্রতি যথাযথ সম্মান ও তাদের অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের সকলের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব।