রকিবুল হাসান মুন্না
নভেম্বর ৫, ২০২৫, ০৪:২০ পিএম
ছবি-দিনাজপুর টিভি
উত্তরাঞ্চলের একমাত্র সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর (বেরোবি) এবং আন্তর্জাতিক মানবিক ও উন্নয়ন সংস্থা ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।বুধবার (৫ নভেম্বর) বেলা ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স রুমে উভয় পক্ষের প্রতিনিধি দলের উপস্থিতিতে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়।
চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন-অর-রশিদ এবং ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর তালহা জামাল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলী।উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলী বলেন, "ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের সহযোগিতায় আমাদের শিক্ষার্থীরা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তন, রোহিঙ্গা ইস্যু ও গবেষণার বিভিন্ন খাতে কাজ করার সুযোগ পাবে।
আমি চাই সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের পাশাপাশি অন্যান্য অনুষদের শিক্ষার্থীরাও ভবিষ্যতে এই সুযোগ পাবে। এই উদ্যোগ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণাধর্মী ও উদ্ভাবনমুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।"কান্ট্রি ডিরেক্টর তালহা জামাল বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কাজ করা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। বিশ্বের সেরা একাডেমিক চিন্তাধারার সঙ্গে বাংলাদেশকে যুক্ত করতে আমরা কাজ করছি।
এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে গবেষণা, দারিদ্র্য বিমোচন, জলবায়ু পরিবর্তন ও দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হবে।" তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, (নিজেদের ভাগ্য নিজেদেরই তৈরি করতে হবে)।রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন-অর-রশিদ বলেন, "উত্তরাঞ্চলের বঞ্চনার ইতিহাস থেকেই বেরোবির জন্ম। এখানকার শিক্ষার্থীরা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি। বিশ্বের নিপীড়িত ও অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের হেড অব প্রোগ্রাম মো. এনামুল হক সরকার বলেন, "২০০৮ সাল থেকে ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে কাজ করে আসছে। এই চুক্তির মাধ্যমে বেরোবির শিক্ষার্থীরা ইন্টার্নশিপ ও গবেষণায় সুযোগ পাবে এবং দেশের বিভিন্ন নীতি প্রণয়ন ও সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখবে।"সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, "এই সমঝোতা স্মারক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। গবেষণা, সেমিনার, ওয়ার্কশপ এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে তারা বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারবে।"
ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা। যার পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছেন প্রিন্স চার্লস। সংস্থাটি বিশ্বের ৪৫টি দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং ১৯৯১ সাল থেকে বাংলাদেশে দুর্যোগ মোকাবিলা, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবিক সহায়তা, রোহিঙ্গা শরণার্থী সহায়তা ও দারিদ্র্য বিমোচনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছে।