বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬,
নতুন গান

পূজায় ফারজানা ওয়াহিদ সায়ানের নতুন গান ‘এই মাটিতে সমান সব’ প্রকাশ

বিনোদন ডেস্ক

অক্টোবর ৭, ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম

পূজায় ফারজানা ওয়াহিদ সায়ানের নতুন গান ‘এই মাটিতে সমান সব’ প্রকাশ

শুধু মন ভোলানো কথা ও সুরের খেলা নয়, তাঁর গান যেন একেকটি জোরালো বক্তব্য। কখনো সেই বক্তব্য হয় চিন্তার দরজা খোলার টোকা, কখনো বা ঝাঁজালো ভাষণের মতো। তিনি সংগীতশিল্পী ফারজানা ওয়াহিদ সায়ান, গানের মধ্য দিয়ে যিনি আদতে মানুষ, জীবন ও দেশের কথা বলে থাকেন।

আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে একটি নতুন গান প্রকাশ করতে চলেছেন এই শিল্পী।

‘এই মাটিতে সমান সব’ শিরোনামের গানটি অবশ্য ২০২১ সালে তৈরি করা হয়েছিল। তবে এতদিন এটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। দীর্ঘ বিরতির পর অবশেষে আগামী ১৪ অক্টোবর একটি পূর্ণাঙ্গ আয়োজনের মধ্য দিয়ে গানটি শ্রোতাদের সামনে আসছে। বরাবরের মতোই গানটির কথা ও সুর করেছেন সায়ান নিজে। গানটির সংগীতায়োজন করেছেন শফিকুজ্জামান শাওন এবং ভিডিও নির্মাণ করেছেন সুরঞ্জিত কুমার রক্ষিত।

এই গান মুক্তির প্রাক্কালে নিজের কিছু ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি মানুষের প্রতি আহ্বান এবং রাষ্ট্রের কাছে সুনির্দিষ্ট কিছু দাবি জানিয়েছেন সায়ান।

গানটির প্রেক্ষাপট নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি জানান, এটি মূলত ধর্ম নিয়েই একটি গান। তিনি একটি মুসলমান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং নিজের সেই পরিচয় কখনো আড়াল করতে চান না। ধর্মকে তিনি সবচেয়ে বেশি শিখেছেন ও বুঝেছেন তাঁর মা ও নানির কাছ থেকে। রোজা ও পূজার সময়ে তাঁদের শিক্ষা স্মরণ করে সায়ান বলেন, তাঁর পরিবার শিখিয়েছে—মুসলমান বলে কেউ হিন্দুর চেয়ে বড় কিংবা উত্তম নয়, এবং শুধু হিন্দু নয়, যেকোনো ধর্মের মানুষের বেলায়ও এই কথা সমভাবে প্রযোজ্য।

বাংলাদেশে মুসলমানের সংখ্যা বেশি হলেও তার মানে এই নয় যে তারা অন্যদের চেয়ে বড়, এমনটাই বিশ্বাস শিল্পীর।

তাঁর মতে, সংখ্যায় বেশি হলেই কেউ কারোর চেয়ে বড় হয় না বা সেই মাটিতে কারো হক বেশি থাকে না। মাটির মধ্যে কারো ধর্মীয় পরিচয় লেখা থাকে না; মানুষ স্রেফ একজন মানুষ হিসেবেই জন্মগ্রহণ করে। পরবর্তীতে সে তার জন্মস্থান, সম্প্রদায় ও ধর্ম সম্পর্কে জানতে পারে। এই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘুর হিসেব দিয়ে মাটির পরিচয় নির্ধারণ করা তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

অন্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সায়ান স্পষ্ট করেন যে, মুসলমান পরিবারে জন্ম নিলেই কেউ কারোর চেয়ে শ্রেষ্ঠ হয়ে যায় না।

ধর্মের ভিত্তিতে কাউকে আক্রমণ, অপমান, অসম্মান বা ছোট করা যাবে না। কার ধর্ম কী, সে তা পালন করবে কি না, সেটা সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত বিষয়।

সবশেষে রাষ্ট্রের কাছে নিজের প্রত্যাশা ও দাবি তুলে ধরে সায়ান জানান, যে কোনো ব্যক্তির ধর্ম মানার কিংবা না মানার অধিকার রাষ্ট্রকে সুনিশ্চিত করতে হবে।

যারা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করবেন, তাঁদের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও সুরক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সমাজে সংখ্যালঘু বা সংখ্যায় কম বলে যাঁদের ভাবা হয় (যদিও এটি মানুষের প্রকৃত পরিচয় হতে পারে না), তাঁদের প্রতি রাষ্ট্রের যত্ন ও দায়িত্ব আরও বেশি হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।