অক্টোবর ১, ২০২৫, ০৭:৪০ পিএম
নিরাপদ সড়ক চাই' (নিসচা) আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন দীর্ঘ সাত মাস ধরে অসুস্থ। বর্তমানে তিনি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থান করছেন। ইলিয়াস কাঞ্চনের ছেলে মিরাজুল মইন জয় কানাডা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তাঁর বাবা ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত এবং এখনো চিকিৎসা চলছে।
তিনি দেশবাসীর কাছে বাবার জন্য দোয়া চেয়েছেন।জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৫ উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধনের জন্য বুধবার (২২ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।আসলে, তাঁর অসুস্থতা শুরু হয়েছিল এ বছরের গোড়ার দিকেই।
তিনি কথা বলতে গিয়ে আটকে যেতেন এবং অনেক কিছু মনে করতে তাঁর কষ্ট হতো। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ৯ এপ্রিল ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মাথার এমআরআই করা হলে তাঁর মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়ে। এই রিপোর্ট নিয়ে গত ১৩ এপ্রিল আগারগাঁওয়ের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানকার ডাক্তাররা একটি বোর্ড গঠন করে মতামত দেন যে, তাঁর মাথায় অপারেশন করাটা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হবে, কারণ টিউমারটি ব্রেনের অনেক গভীরে এবং গুরুত্বপূর্ণ নার্ভের সংযোগস্থলে অবস্থান করছে। ডাক্তারদের এই মতামত জানার পরই পারিবারিকভাবে লন্ডনে চিকিৎসা করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত মোতাবেক দ্রুত কাগজপত্র গুছিয়ে গত ২৬ এপ্রিল তিনি লন্ডনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন।
লন্ডনে পৌঁছানোর পরের দিন থেকেই সেখানকার হারলি স্ট্রিট ক্লিনিকের নিউরোসার্জারি ডাক্তারের অধীনে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। দীর্ঘ তিন মাস ধরে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত ৫ আগস্ট লন্ডনের উইলিংটন হাসপাতালে প্রফেসর ডিমিট্রিয়াসের নেতৃত্বে তাঁর মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয়।
এখানে একটা বিষয় জেনে রাখা জরুরি: ডাক্তাররা অপারেশনের আগেই জানিয়েছিলেন যে, পুরো টিউমার অপসারণ করা যাবে না। যদি তা করা হয়, তবে জীবনহানিসহ প্যারালাইসড হয়ে চলনশক্তি ও কথা বলার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারেন তিনি। তাই ডাক্তারের সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা রেখে টিউমারটির কিছু অংশ অপসারণের জন্য তাঁর পরিবার অনুমতি দেয়। বাকি অংশ ডাক্তাররা রেডিয়েশন ও কেমোথেরাপির মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করার কথা জানিয়েছেন।
মোট ৩০ দিন রেডিয়েশন ও কেমোথেরাপি দিতে হবে। সপ্তাহে পাঁচ দিন করে এই চিকিৎসা ছয় সপ্তাহ ধরে চলবে, যা এই মাসেই শুরু হওয়ার কথা। এরপর চার সপ্তাহ তিনি ডাক্তারের অবজারভেশনে থাকবেন। সেখানকার ডাক্তাররা যখন অনুমতি দেবেন, তখনই তিনি বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন বলে আশা করছে তাঁর পরিবার। মিরাজুল মইন জয় বাবা ইলিয়াস কাঞ্চনের দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে আবারও দোয়া প্রার্থনা করেছেন।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন