মার্চ ৩০, ২০২৬, ১০:৫১ এএম
হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ যা মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস, হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে বাতাসের সাহায্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত এই ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার সাত থেকে চৌদ্দ দিন পর রোগীর শরীরে লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়। হামের প্রধান উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে তীব্র জ্বর, সর্দি, অনবরত কাশি এবং চোখ লাল হয়ে পানি পড়া।
তবে ভাইরাসের সংক্রমণ হওয়ার অন্তত ১০ থেকে ১৪ দিন পর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। এর আগে রোগীর মুখের ভেতরে বিশেষ করে গালের ঝিল্লিতে ছোট সাদাটে দাগ দেখা দিতে পারে যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে কোপলিক স্পটস নামে পরিচিত।
হামের রোগীর সংস্পর্শে আসার পরেও সঠিক সময়ে ব্যবস্থা নিলে সংক্রমণের ঝুঁকি বা অসুস্থতার তীব্রতা অনেকটা কমানো সম্ভব। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা পোস্ট-এক্সপোজার টিকা বা এমএমআর টিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
যদি সম্ভাব্য সংক্রমণের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হাম, মাম্পস এবং রুবেলা বা এমএমআর টিকা দেওয়া যায় তবে তা হাম প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে যাদের আগে হামের টিকা দেওয়া হয়নি তাদের জন্য এই পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া ছয় মাসের কম বয়সী শিশু, গর্ভবতী নারী অথবা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অত্যন্ত কম তাদের জন্য হিউম্যান নরমাল ইমিউনোগ্লোবুলিন বা এইচএনআইজি ইনজেকশন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। এটি সংক্রমণের ছয় দিনের মধ্যে প্রয়োগ করলে তাৎক্ষণিক সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব।
হামের ভাইরাসটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং এটি বাতাসে বা কোনো পৃষ্ঠতলে প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে। সংক্রামিত ব্যক্তি তার শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ার চার দিন আগে থেকেই ভাইরাসটি ছড়াতে শুরু করেন এবং ফুসকুড়ি হওয়ার পরবর্তী চার দিন পর্যন্ত তিনি সংক্রামক থাকেন। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃতভাবেই রোগটি একজনের কাছ থেকে অন্যজনের দেহে সংক্রমিত হয়। শরীরচর্চা বা সাধারণ চলাচলের সময় যদি কোনো সুস্থ ব্যক্তি দূষিত পৃষ্ঠ স্পর্শ করার পর চোখ, নাক বা মুখ স্পর্শ করেন তবে তিনি দ্রুত আক্রান্ত হতে পারেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী টিকা না নেওয়া নব্বই শতাংশ মানুষ যদি একজন হামের রোগীর সঙ্গে একই বাড়িতে অবস্থান করেন তবে তাদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত।সাধারণত শুষ্ক কাশি এবং সর্দি দিয়ে এই রোগের শুরু হয় যা পরবর্তীতে গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে। কানের পেছন থেকে শুরু হয়ে এই লালচে-বাদামী ফুসকুড়ি মুখ, ঘাড় এবং শরীরের ওপরের অংশে ছড়িয়ে পড়ে এবং পাঁচ থেকে সাত দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
হামের কারণে সঠিক চিকিৎসার অভাবে নিউমোনিয়া, কানে ইনফেকশন এমনকি মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো মারাত্মক জটিলতা তৈরি হতে পারে। এই ভয়াবহতা রোধে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি নিশ্চিত করা এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত অন্যদের থেকে আলাদা রাখা অপরিহার্য। শিশুদের মধ্যে যেকোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে বিলম্ব না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং সরকারি টিকাদান কেন্দ্রে যোগাযোগ করা উচিত।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন