এপ্রিল ৫, ২০২৬, ১১:২০ এএম
শিশুদের হাম বা মিজলস হওয়াকে অনেক সময় সাধারণ জ্বর মনে করে অবহেলা করা হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে বাবা-মায়ের ছোট ছোট কিছু ভুল এই রোগকে প্রাণঘাতী করে তুলতে পারে। বর্তমান সময়ে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ায় এ নিয়ে বিশেষ সর্তকতা প্রয়োজন। শিশু বিষয়ক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আফজাল ফেরদৌস জানিয়েছেন একটু সচেতন থাকলেই হামের মতো রোগ থেকে শিশুকে বড় ধরণের ঝুঁকি ছাড়াই সুস্থ করে তোলা সম্ভব।
হাম প্রতিরোধের প্রধান হাতিয়ার হলো সঠিক সময়ে টিকা দেওয়া। অনেক সময় বাবা-মায়েরা শিশুকে এমএমআর টিকা দিতে দেরি করেন বা গুরুত্ব দেন না যা সবচেয়ে বড় ভুল। টিকা না নেওয়া থাকলে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং সে দ্রুত হামের জটিলতায় আক্রান্ত হয়।
রোগটি শুরু হওয়ার পর অনেক অভিভাবক একে খুব সাধারণ বলে মনে করেন এবং ভাবেন এটি নিজে নিজেই সেরে যাবে। চিকিৎসকের মতে এই অবহেলার কারণে শিশুদের শরীরে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এমনকি মস্তিষ্কের সংক্রমণের মতো মারাত্মক জটিলতা তৈরি হতে পারে।
জ্বর ওঠা, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিলেও অনেকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে সময়ক্ষেপণ করেন। এই দেরিতে চিকিৎসা শুরু করা রোগটিকে আরও জটিল পর্যায়ে নিয়ে যায়। এছাড়া হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় আক্রান্ত শিশুকে আলাদা না রাখলে পরিবারের অন্যান্য শিশুরাও ঝুঁকির মুখে পড়ে। হাম আক্রান্ত শিশুর ঘর ও ব্যবহারের জিনিসপত্র আলাদা রাখা এবং সেবাদানকারীর বিশেষ স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
অসুস্থতার কারণে অনেক শিশু খেতে চায় না বলে অভিভাবকরা খাবার ও পানি দেওয়ায় কিছুটা ঢিলেমি করেন। এর ফলে শিশুর শরীরে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন দেখা দেয় এবং পুষ্টিহীনতার ঝুঁকি বাড়ে। হামের চিকিৎসায় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের ভূমিকা অপরিসীম কারণ এটি চোখের ক্ষতি রোধ করে এবং অন্যান্য জটিলতা কমায়। অনেক বাবা-মা এই বিষয়টি এড়িয়ে যান যা পরবর্তীতে শিশুর জন্য ক্ষতির কারণ হয়। এছাড়া অসুস্থ শিশুকে বাইরে বা জনসমাগমে নিয়ে যাওয়া হলে তা যেমন শিশুর জন্য কষ্টকর তেমনি অন্যদের মধ্যেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
হাম আক্রান্ত শিশুর অবস্থা কখন আশঙ্কাজনক হতে পারে তা বাবা-মায়ের জানা থাকা জরুরি। যদি দেখা যায় শিশুর শ্বাস নিতে অনেক কষ্ট হচ্ছে কিংবা সে খাবার একেবারে বন্ধ করে দিয়েছে তবে দেরি না করে হাসপাতালে নিতে হবে। এছাড়া অস্বাভাবিক ঘুম, খিঁচুনি কিংবা তীব্র ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ডা. আফজাল ফেরদৌস। সঠিক সময়ে সচেতন হওয়া এবং কুসংস্কার পরিহার করাই হাম থেকে সুরক্ষার একমাত্র উপায়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন