এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম
বাচ্চা নেওয়ার উপযুক্ত বয়স আসলে কত—এই প্রশ্নটি অনেক দম্পতির মনেই উঁকি দেয়। প্রচলিত একটি ধারণা রয়েছে যে ৩০ বছরের আগেই প্রথম সন্তান গ্রহণ করা আদর্শ। তবে আধুনিক জীবনযাত্রা ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রেক্ষাপটে এই ধারণা সবার জন্য একরকম নয়। বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. তাসনিম জারা এ বিষয়ে ভিন্ন এক ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
তাঁর মতে, সন্তান গ্রহণের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো একক বয়স নেই যা সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। বরং এটি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট দম্পতির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, তারা মোট কয়টি সন্তান নিতে চান এবং তাঁদের বর্তমান শারীরিক অবস্থার ওপর।চিকিৎসক তাসনিম জারা প্রজনন ক্ষমতার পরিবর্তন নিয়ে বলতে গিয়ে নারী ও পুরুষের শরীরের ভিন্নতার কথা উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতা সাধারণত ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত খুব একটা পরিবর্তিত হয় না। কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। নারীরা নির্দিষ্ট সংখ্যক ডিম্বাণু নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সংখ্যা কমতে থাকে।
জন্মের সময় যেখানে ১০ থেকে ২০ লাখ ডিম্বাণু থাকে, সেখানে ৩৭ বছর বয়সে তা কমে মাত্র ২৫ হাজারে নেমে আসে। বিপরীতে পুরুষদের শরীরে বয়ঃসন্ধিকাল থেকে প্রতিদিন নতুন করে শুক্রাণু তৈরি হয়, যার ফলে তাদের সক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী হয়।কখন সন্তান নেওয়ার চেষ্টা শুরু করা উচিত, সে বিষয়ে ডা. জারা কৌশলগত পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, যদি কোনো দম্পতি কেবল একটি সন্তান নিতে চান, তবে তারা কিছুটা দেরিতে শুরু করলেও সফলতার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু যারা দুই বা তিনটি সন্তান নিতে আগ্রহী, তাদের বেশ আগে থেকেই পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে যদি কেউ গর্ভধারণে ৯০ শতাংশ সফলতার সম্ভাবনা নিশ্চিত করতে চান, তবে তাঁকে তুলনামূলক কম বয়সে চেষ্টা শুরু করতে হবে। তবে যারা ক্যারিয়ার বা পড়াশোনাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন, তারা সঠিক তথ্য ও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে কিছুটা দেরিতেও এগোতে পারেন।গর্ভধারণের ক্ষেত্রে কিছু শারীরিক লক্ষণের দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এই চিকিৎসক।
তাঁর ভাষায়, মাসিক অনিয়মিত হওয়া, দীর্ঘ সময় মাসিক বন্ধ থাকা কিংবা মাসিকের সময় তীব্র ব্যথা বা অতিরিক্ত রক্তপাত বিপদের সংকেত হতে পারে। এছাড়া মুখে বা শরীরে অবাঞ্ছিত লোম এবং ব্রণের সমস্যা থাকলে পিসিওএস বা জরাইুর ফাইব্রয়েডের মতো সমস্যা থাকার সম্ভাবনা থাকে। এসব শারীরিক জটিলতা অনেক সময় গর্ভধারণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। পাশাপাশি থাইরয়েড সমস্যা, অতিরিক্ত ওজন এবং ধূমপানের অভ্যাসও প্রজনন ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সন্তান ধারণের সম্ভাবনা বাড়াতে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনার কথা বলেছেন ডা. তাসনিম জারা। স্বাভাবিক ওজন বজায় রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি সঠিক সময়ে সহবাসের গুরুত্ব রয়েছে। তিনি মনে করেন, গর্ভধারণের সিদ্ধান্তটি একান্তই ব্যক্তিগত হলেও বাস্তবসম্মত ধারণা ও বিজ্ঞানসম্মত তথ্য জানা থাকলে সঠিক পরিকল্পনা করা সহজ হয়। যেকোনো শারীরিক অসঙ্গতি বা সন্দেহ দেখা দিলে সময় নষ্ট না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সঠিক তথ্যই পারে একজন নারীকে সুস্থ মা হিসেবে গড়ে তুলতে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন