জুন ১, ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অকাল মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাক মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে এবং বাংলাদেশেও এর রোগীর সংখ্যা দিন দিন আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে যে দিনের অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি ঘটে থাকে।
এটি কোনো কাকতালীয় বিষয় নয়, বরং এর পেছনে সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক কারণ ও শরীরের অভ্যন্তরীণ কিছু স্বাভাবিক রাসায়নিক পরিবর্তন জড়িত রয়েছে।চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের মানবদেহ একটি নির্দিষ্ট প্রাকৃতিক ছন্দ বা ‘বডি ক্লক’ অনুযায়ী তার দৈনন্দিন সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরপরই মানুষের শরীরে অ্যাড্রেনালিন ও কর্টিসলের মতো স্ট্রেস হরমোনের নিঃসরণ বা মাত্রা হঠাৎ অনেক বেড়ে যায়।
এর ফলে হৃৎস্পন্দন দ্রুত হওয়ার পাশাপাশি রক্তচাপ স্বাবাবিকভাবেই বাড়তে শুরু করে এবং একই সময়ে শরীরের রক্ত কিছুটা ঘন হয়ে জমাট বাঁধার প্রবণতাও বৃদ্ধি পায়। যদি কোনো ব্যক্তির হৃদপিণ্ডের ধমণিতে আগে থেকেই অতিরিক্ত চর্বি বা ব্লক জমে থাকে, তবে এই আকস্মিক বাড়তি মনস্তাত্ত্বিক চাপ রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে হার্ট অ্যাটাকের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।বিশেষ করে ভোর চারটা থেকে সকাল দশটার মধ্যকার সময়টুকুকে চিকিৎসকেরা হৃদরোগীদের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময় হিসেবে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করেছেন।
ধানমন্ডির পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সহকারী অধ্যাপক ও বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডক্টর সাইফ হোসেন খান জানান যে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এই ঝুঁকি বহু গুণ বাড়িয়ে দেয়। তিনি সকালে ঘুম থেকে উঠেই হঠাৎ ভারী ব্যায়াম না করার এবং তীব্র বুকে ব্যথার মতো লক্ষণ দেখা দিলে প্রথম এক ঘণ্টার ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এর মধ্যে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। সঠিক নিয়মে ওষুধ সেবন, ধূমপান বর্জন এবং সচেতন খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমেই কেবল এই মারাত্মক সকালের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন