নভেম্বর ১৫, ২০২৫, ১০:০০ এএম
গাজা সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের সংশোধিত খসড়া প্রস্তাবকে ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মোড় নিয়েছে। সৌদি আরব ও তুরস্কসহ মোট আটটি আরব ও ইসলামিক দেশ এই প্রস্তাবের প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে।
শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে এই দেশগুলো জানিয়েছে গত ২৯ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটন যে সমন্বিত পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল তা গাজা সমস্যার সমাধান এবং ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য একটি কার্যকর কাঠামো হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই সমর্থন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় বড় ধরনের গতি সঞ্চার করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র যে খসড়া প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছে তাতে গাজার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েন রাখার কথা বলা হয়েছে। এই বিশেষ বাহিনী গাজার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পুনঃস্থাপন সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া তদারকি করবে।
একই সঙ্গে বোর্ড অব পিস নামে একটি অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করবে এই বাহিনী। জানা গেছে এই উদ্যোগটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ২০ দফা যুদ্ধবিরতি ও পুনর্গঠন পরিকল্পনারই একটি অংশ। পরিকল্পনা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাহিনী গাজার নিয়ন্ত্রণ বুঝে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধাপে ধাপে সেখান থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে।তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাবটি নিয়ে বিশ্বশক্তির মধ্যে বিভক্তিও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রস্তাবের কিছু নির্দিষ্ট অংশ নিয়ে রাশিয়া চীন আলজেরিয়া এবং আরও কয়েকটি দেশ জোরালো আপত্তি জানিয়েছে।
এই দেশগুলোর মতে প্রস্তাবিত অন্তর্বর্তী বোর্ডের কাঠামো অনেকটাই অস্পষ্ট এবং এতে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ভূমিকা সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। এছাড়া ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা নিয়েও অস্পষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তারা। বিরোধীদের মতে এই অস্পষ্টতা ভবিষ্যতে নতুন করে সংকটের জন্ম দিতে পারে। এসব অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে আরও বিস্তারিত আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন