ডিসেম্বর ২৮, ২০২৫, ১০:৩৬ এএম
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর দুই বছরেরও বেশি সময়ের ভয়াবহ আগ্রাসনে প্রাণহানির সংখ্যা সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ফিলিস্তিনিদের নিহতের মোট সংখ্যা এখন ৭১ হাজার ২৬৬ জনে দাঁড়িয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো গত ১০ অক্টোবর নতুন করে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও বাস্তবে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রেখেছে।
গত আড়াই মাসের এই তথাকথিত যুদ্ধবিরতির সময়েই ইসরাইলিরা আরও ৪০০ জনের বেশি মানুষকে হত্যা করেছে। শনিবার ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই ভয়াবহ পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে।
বিবৃতিতে জানানো হয় যে গত ৪৮ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় নতুন করে চারজন নিহত হয়েছেন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আরও ২৫ জনের মরদেহ।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত আহত হয়েছেন এক লাখ ৭১ হাজার ২১৯ জন। শনিবারও গাজা শহর, জাবালিয়া ও খান ইউনুস এলাকায় নির্বিচারে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। এছাড়া মধ্য গাজার মাগাজি ও নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরে কামানের গোলাবর্ষণ করা হয়েছে। এমনকি সমুদ্র উপকূলে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে ইসরাইলি নৌবাহিনী যা চরম অমানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।গাজার পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীরেও ইসরাইলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীরা তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে।
ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে যে ইসরাইলি সেনারা জেনিনের কাবাতিয়া গ্রামে শনিবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি চালিয়েছে এবং স্থানীয়দের ওপর মানসিক ও শারীরিক নিপীড়ন চালিয়েছে। অভিযানের সময় তারা গ্রামের স্কুল ও বসতবাড়িকে সামরিক ঘাঁটিতে রূপান্তর করেছে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। এছাড়া হেবরন ও নাবলুস এলাকা থেকে নারী ও শিশুসহ বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে আটক করার খবর পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক মহলের চোখরাঙানি উপেক্ষা করেই ইসরাইলি বাহিনী তাদের এই ধ্বংসাত্মক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন