সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সর্বত্র বন্ধু থাকলেও কোথাও সুবিধা পাচ্ছে না ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্চ ১৯, ২০২৬, ১১:০৪ এএম

সর্বত্র বন্ধু থাকলেও কোথাও সুবিধা পাচ্ছে না ভারত

সংকটে ভারতের পররাষ্ট্রনীতি

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন নীতির ওপর ভিত্তি করে বৈশ্বিক কূটনীতিতে ভারসাম্য বজায় রাখার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ভারত। এই সময়ের মধ্যে দেশটি কোয়াডের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার মাধ্যমে চীনের সঙ্গে যেমন সুসম্পর্ক রেখেছে তেমনি রাশিয়া ও ইসরায়েলের সঙ্গেও সমান্তরাল সখ্যতা বজায় রেখেছে। 

নয়াদিল্লির মূল কৌশল ছিল জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সবার সঙ্গে সম্পর্ক রাখা কিন্তু কারো সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠ না হওয়া। তবে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিরতা বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনা ভারতের এই দীর্ঘদিনের ভারসাম্যের কূটনীতিকে এক কঠিন পরীক্ষার মুখে ঠেলে দিয়েছে। 

ভারতের পররাষ্ট্রনীতির তিনটি প্রধান স্তম্ভ হলো প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে সন্ত্রাস দমন ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখা। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই প্রতিটি ক্ষেত্রেই নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধাবস্থা ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ইতিমধ্যে ইরানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে জরুরি কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু করেছেন। ভারতের এই তৎপরতার ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে দুটি ভারতীয় গ্যাসবাহী ট্যাংকার চলাচলের অনুমতি দিলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি অনুকূলে আসেনি। 

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী এখনো ভারতের অন্তত ২২টি বাণিজ্যিক জাহাজ ওই অঞ্চলের জলসীমায় আটকা পড়ে আছে। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে শুধুমাত্র অনুরোধের ভিত্তিতে এই জাহাজগুলো ছাড়া হবে না। বিনিময়ে ভারতকেও কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ইরানের দাবি অনুযায়ী ভারতে জব্দ থাকা তাদের তিনটি জাহাজ ফিরিয়ে দেওয়া অথবা তেহরানে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানোর শর্ত পূরণ করলেই কেবল আটকে থাকা জাহাজগুলো মুক্তি পেতে পারে।

তেহরানের এই শর্তগুলো পূরণ করতে গেলে নয়াদিল্লির জন্য ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠবে। কারণ ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন এর আগে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় ভারতকে কিছু রুশ তেল কেনার বিশেষ অনুমতি দিয়েছিল কিন্তু নয়াদিল্লি যদি এখন সরাসরি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইরানের সঙ্গে বিশেষ লেনদেন শুরু করে তবে সেই ছাড়ের সুবিধা ভবিষ্যতে বজায় থাকবে কি না তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। 

একদিকে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অন্যদিকে দীর্ঘদিনের কৌশলগত মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখা এই দ্বিমুখী সংকটে ভারতের নীতিনির্ধারকরা এখন নতুন করে পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন। বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তারের এই দৌড়ে ভারত শেষ পর্যন্ত কার পক্ষ নেবে বা কীভাবে এই অচলাবস্থা কাটবে তা এখন দেখার বিষয়।