এপ্রিল ৯, ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর ড্রোন হামলায় কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা মোবাশারের সংবাদদাতা মোহাম্মদ উইশাহ নিহত হয়েছেন। বুধবার গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলীয় সড়ক আল-রশিদ স্ট্রিটে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, উইশাহ যখন একটি গাড়িতে করে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন, তখন ইসরায়েলি ড্রোন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি তার গাড়িতে আঘাত হানে। মুহূর্তের মধ্যে গাড়িটিতে আগুন ধরে যায় এবং তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
মোহাম্মদ উইশাহ দীর্ঘ দিন ধরে গাজা উপত্যকা থেকে যুদ্ধ পরিস্থিতির খবর সরাসরি বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিচ্ছিলেন। ২০১৮ সালে তিনি আল-জাজিরা নেটওয়ার্কে যোগদান করেন এবং ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী সংঘাতের প্রথম দিন থেকেই মাঠ পর্যায়ে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে সংবাদ পরিবেশন করে আসছিলেন।
আল-জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্ক এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতিতে একে ‘জঘন্য ও পরিকল্পিত অপরাধ’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয় বরং সংবাদকর্মীদের ভয় দেখানো এবং সত্যের কণ্ঠরোধ করার একটি সুচিন্তিত প্রচেষ্টা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে এ ধরণের হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন। গাজা থেকে আল-জাজিরার অন্যান্য সংবাদকর্মীরা জানিয়েছেন যে, কথিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার ঘোষণা সত্ত্বেও ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে এ ধরণের হামলার ঘটনা ঘটছে। সাংবাদিক ইব্রাহিম আল-খালিলি জানান, আল-রশিদ স্ট্রিটের মতো একটি প্রধান সড়কে চলন্ত অবস্থায় সংবাদকর্মীর ওপর হামলা প্রমাণ করে যে গাজায় এখন কেউ নিরাপদ নয়। যুদ্ধবিরতি শুরুর কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির কোনো গুণগত পরিবর্তন ঘটেনি।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২৬২ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ইউনিয়ন ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এই ঘটনাকে ‘পদ্ধতিগত টার্গেট কিলিং’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। সাংবাদিক উইশাহর মৃত্যুতে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠনগুলোর প্রতি তীব্র প্রতিবাদ জানানো এবং দোষীদের আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের আওতায় আনার দাবি জোরালো হচ্ছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা ৭২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। নতুন করে শুরু হওয়া এই অস্থিরতায় সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি সম্মুখ সারির সংবাদকর্মীরাও চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন। আন্তর্জাতিক মহল থেকে বারংবার সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। মোহাম্মদ উইশাহর এই আত্মত্যাগ গাজার সাংবাদিকদের চরম প্রতিকূলতার মধ্যে কাজ করার করুণ বাস্তবতাকে আবারও বিশ্বের সামনে উন্মোচিত করল।
সূত্র: আল-জাজিরা


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন