এপ্রিল ২১, ২০২৬, ০৮:৩৬ পিএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক চরম হুঁশিয়ারির জবাবে কোনোভাবেই নতি স্বীকার না করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আসা চাপের মুখে নমনীয় না হয়ে বরং যেকোনো সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় দেশটি ‘বিস্ময়কর’ সব সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে বলে দাবি করেছেন তেহরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই খবর নিশ্চিত করেছে।
তেহরানে নিযুক্ত আল জাজিরার প্রতিনিধি আলী হাশেম জানিয়েছেন, মার্কিন চাপের মুখে আত্মসমর্পণ না করার বিষয়ে আগেভাগেই নিজেদের অনড় অবস্থান স্পষ্ট করেছে ইরান।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ এক বিশেষ বার্তায় সাফ জানিয়েছেন যে, ইরান কোনোভাবেই মার্কিন শক্তির কাছে মাথা নত করবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অবরুদ্ধ বা চাপের মুখে থাকা অবস্থায় পাকিস্তানে নির্ধারিত কোনো আলোচনায় ইরান অংশ নেবে না।
ঘালিবাফ আরও সতর্ক করে বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় যুদ্ধ শুরু করে, তবে ইরানের কাছে এমন কিছু ‘বিস্ময়’ প্রস্তুত আছে যা শত্রু পক্ষ কল্পনাও করতে পারছে না। তাঁর এই কঠোর বার্তা মূলত ট্রাম্পের ‘চমৎকার চুক্তি’ অথবা যুদ্ধের হুমকির প্রত্যক্ষ জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে।এদিকে ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রধান কমান্ড ‘খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তর’ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সম্ভাব্য যেকোনো বিদেশি আক্রমণ প্রতিহত করতে তারা বর্তমানে পূর্ণ যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
দেশটির বিচার বিভাগসহ একাধিক সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আজ মঙ্গলবার জানিয়েছেন, ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলার উচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে এবং সেভাবেই তারা তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজিয়েছেন। সামরিক সক্ষমতার নতুন সব দিক প্রদর্শন করতে তেহরান এখন যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তৈরি বলে দাবি করা হয়েছে।ইরানি কর্মকর্তারা তাদের দেশের সাধারণ জনগণের উদ্দেশে এই বার্তা দিচ্ছেন যে, যদি ইরান অবরুদ্ধ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শর্ত মেনে নিয়ে নতি স্বীকার না করে, তবে সামনে যুদ্ধের আশঙ্কা প্রবল।
মূলত যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে অসম্মানজনক আত্মসমর্পণের চেয়ে আত্মমর্যাদা রক্ষার জন্য যুদ্ধের প্রস্তুতিকেই এখন সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছে তেহরান। দুই দেশের এমন বিপরীতমুখী অবস্থান ও বাকযুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। বুধবারের মধ্যে কোনো কার্যকর সমাধান না এলে বিশ্ব বড় কোনো সংঘাতের সাক্ষী হতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন