মে ৩, ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এর সরাসরি শিকার হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাজার। শনিবার প্রকাশিত সর্বশেষ সরকারি তথ্যে দেখা গেছে, দেশটিতে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় মূল্য বেড়ে ৪ দশমিক ৪৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে এই দাম বেড়েছে প্রায় ৩৪ সেন্ট।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৪৭ ডলার।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সেখানে নিয়মিত ব্যবহৃত পেট্রোলের গড় মূল্য বর্তমানে প্রতি গ্যালন ৬ দশমিক ১০ ডলার, যা পুরো আমেরিকার মধ্যে সর্বোচ্চ।
শুধু ব্যক্তিগত যানবাহনের জ্বালানি নয় বরং পরিবহন শিল্পে বহুল ব্যবহৃত ডিজেলের দামও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্তমান তথ্যানুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন ডিজেলের জাতীয় গড় মূল্য এখন ৫ দশমিক ৬৪ ডলার। অথচ যুদ্ধ শুরুর আগের দিন অর্থাৎ ২৭ ফেব্রুয়ারিতেও এর দাম ছিল ৩ দশমিক ৭৬ ডলার। অল্প সময়ের ব্যবধানে এই বিপুল মূল্যবৃদ্ধি মার্কিন অভ্যন্তরীণ সরবরাহ চেইনকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় তবে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। জ্বালানির এই বাড়তি দাম সরাসরি প্রভাব ফেলবে পরিবহন খাতে। এর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং সাধারণ ভোক্তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্ববাজারের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সামাল দিতে ওয়াশিংটন এখন নতুন কোনো বিকল্পের সন্ধান করছে কিনা সেটিই এখন দেখার বিষয়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন