বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬,

ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য নতুন আতঙ্ক ফাইবার-অপটিক ড্রোন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মে ৪, ২০২৬, ১২:১০ এএম

ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য নতুন আতঙ্ক ফাইবার-অপটিক ড্রোন

ফাইবার-অপটিক ড্রোন

দক্ষিণ লেবাননের আকাশে সম্প্রতি নতুন ধরনের এক ড্রোন যুদ্ধের চিত্র সামনে এসেছে। ফাইবার-অপটিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিচালিত এই ড্রোনগুলো ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এই ড্রোনগুলো সহজে শনাক্ত করা যায় না এবং ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের মাধ্যমে এদের থামানো সম্ভব হচ্ছে না।মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, এই ড্রোনের মাধ্যমে ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হিজবুল্লাহর নির্ভুল হামলার সক্ষমতা বেড়ে গেছে। 

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি বিস্ফোরকবাহী কোয়াডকপ্টার ড্রোন দক্ষিণ লেবাননের বাড়ি ও ধ্বংসস্তূপের ফাঁক দিয়ে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুর দিকে এগোচ্ছে। অপারেটর প্রথম-ব্যক্তি দৃষ্টিকোণ থেকে লক্ষ্যবস্তু স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছিলেন। ড্রোনটির স্ক্রিনে ‘বোম্ব রেডি’ লেখা সংকেত দেখা যাচ্ছিল।

সাধারণ ড্রোন যেখানে ওয়্যারলেস সংকেতের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়, সেখানে ফাইবার-অপটিক ড্রোন সরাসরি অপারেটরের সঙ্গে তারের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকে। ইসরায়েলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ গবেষক ইয়েহোশুয়া কালিস্কি বলেন, এই ড্রোনগুলো যোগাযোগ জ্যামিং থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত।

কোনো ইলেকট্রনিক সিগনেচার না থাকায় এগুলো কোথা থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে, সেটি শনাক্ত করাও কঠিন।গত ৩ মে হিজবুল্লাহর প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, কয়েক কেজি ওজনের একটি কোয়াডকপ্টার ড্রোন একটি ইসরায়েলি ট্যাংকের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সেনাদের ওপর আঘাত হানছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) নিশ্চিত করেছে, এই হামলায় ১৯ বছর বয়সী এক সার্জেন্ট নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরে আহতদের সরাতে আসা একটি উদ্ধার হেলিকপ্টারেও ড্রোন হামলার চেষ্টা করা হয়।

ইসরায়েলি সামরিক সূত্র বলছে, এই ড্রোনের ফাইবার-অপটিক কেবল বা তার এতটাই পাতলা যে খালি চোখে তা প্রায় দেখা যায় না। এটি প্রায় ১৫ কিলোমিটার বা তার বেশি দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। ফলে অপারেটর নিরাপদ দূরত্বে থেকেও নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তু দেখতে ও হামলা চালাতে পারেন। এই প্রযুক্তি প্রথম বড় আকারে দেখা গিয়েছিল ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধে।

সেন্টার ফর নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির গবেষক স্যামুয়েল বেনডেট বলেন, দক্ষ অপারেটরের হাতে এই ব্যবস্থা অত্যন্ত প্রাণঘাতী হতে পারে। হিজবুল্লাহ চীন বা ইরান থেকে বেসামরিক ড্রোন সংগ্রহ করে তাতে বিস্ফোরক যুক্ত করে এই অদৃশ্য মারণাস্ত্র তৈরি করছে বলে ইসরায়েলের ধারণা। যদিও চীন এই সংঘাতের কোনো পক্ষকে অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বর্তমানে আইডিএফ গোয়েন্দা বিভাগের সঙ্গে কাজ করে এই ড্রোন মোকাবিলার নতুন উপায় খুঁজছে। তবে ফাইবার-অপটিক ড্রোনের ক্ষেত্রে সিগন্যাল না থাকায় প্রথাগত জ্যামিং ব্যবস্থা কাজ করছে না। শারীরিক কোনো বাধা বা জাল দিয়ে এটি আটকানোর চেষ্টা করা হলেও তা পুরোপুরি কার্যকর নয়। একাধিক ড্রোন একসঙ্গে হামলা চালালে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তারা।