মে ৯, ২০২৬, ০৩:০৩ পিএম
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের দিনে এক অনন্য মানবিক দৃশ্যের সাক্ষী থাকল কলকাতা। রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ৯৭ বছর বয়সী প্রবীণ নেতা মাখন লাল সরকারের পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার (৯ মে) কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে এই ঘটনা ঘটে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শপথ অনুষ্ঠান চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী মোদি মঞ্চে উপস্থিত শিলিগুড়ির প্রবীণ বিজেপি নেতা মাখন লাল সরকারের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন এবং তাকে সস্নেহে আলিঙ্গন করেন। স্বাধীনতা-পরবর্তী ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের অন্যতম এই সংগঠককে মোদির এই সম্মান প্রদর্শন উপস্থিত সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
কে এই মাখন লাল সরকার? পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানান, মাখন লাল সরকার ছিলেন জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির ঘনিষ্ঠ সহযোগী।
১৯৫৩ সালে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি যখন কাশ্মীরের কারাগারে রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন, মাখন লাল সরকার ছিলেন সেই শেষ সফরে তার অন্যতম সফরসঙ্গী। ৯৭ বছর বয়সেও তিনি বিজেপির একজন নিবেদিতপ্রাণ আদর্শিক অভিভাবক হিসেবে পরিচিত।তার জীবনের একটি চমকপ্রদ গল্প তুলে ধরে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, কংগ্রেস আমলে দেশাত্মবোধক গান গাওয়ার কারণে দিল্লি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। আদালতে বিচারক তাকে ক্ষমা চাইতে বললেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং আদালতেই সেই দেশাত্মবোধক গানটি গেয়ে শোনান। তার সাহসিকতায় মুগ্ধ হয়ে বিচারক তাকে সসম্মানে মুক্তি দেন এবং সচ্ছলভাবে বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করেন।
রাজনৈতিক বর্ণাঢ্য জীবন:
১৯৫২: কাশ্মীরে ভারতীয় পতাকা উত্তোলনের আন্দোলনে অংশ নিয়ে গ্রেপ্তার হন।
১৯৮০: বিজেপি গঠনের পর পশ্চিম দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং জেলার সাংগঠনিক সমন্বয়কের দায়িত্ব পান।
সদস্য সংগ্রহ: মাত্র এক বছরের মধ্যে তিনি উত্তরবঙ্গে প্রায় ১০ হাজার নতুন সদস্য সংগ্রহ করে রেকর্ড গড়েন।
শিলিগুড়ি বিজেপি: তিনি ছিলেন শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলার প্রথম জেলা সভাপতি এবং টানা সাত বছর এই পদে আসীন ছিলেন।
বিজেপির সাংগঠনিক নিয়মে সাধারণত কেউ দুই বছরের বেশি একই পদে থাকেন না, কিন্তু মাখন লাল সরকারের সাংগঠনিক দক্ষতা ও জনপ্রিয়তার কারণে তিনি দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। আজ শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে যখন পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়যাত্রা পূর্ণতা পেল, তখন দলের ইতিহাসের জীবন্ত কিংবদন্তিকে প্রধানমন্ত্রীর এই শ্রদ্ধা নিবেদনকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ‘আদর্শের প্রতি সম্মান’ হিসেবে দেখছেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শপথ গ্রহণ শেষে প্রধানমন্ত্রী মাখন লাল সরকারের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন