জুন ৩, ২০২৬, ১১:৩৫ এএম
জোরপূর্বক শ্রমের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশসহ বিশ্বের মোট ৬০টি দেশের ওপর নতুন করে কর বা অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক আরোপের এক বড় প্রস্তাব দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
ওয়াশিংটনের সরকারি উচ্চপর্যায়ের আনুষ্ঠানিক নথির বরাতে জানা গেছে যে এই নির্দিষ্ট দেশগুলো থেকে আমদানিকৃত বিভিন্ন পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
মার্কিন বাণিজ্যের স্বার্থে জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যগুলো আমেরিকান বাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত করছে বলেই এমন কঠোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।বৈভিক মানবাধিকার রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার নিয়মাবলী কঠোরভাবে বলবৎ করার লক্ষ্যেই ওয়াশিংটন এই বাণিজ্যিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় বা ইউএসটিআর মঙ্গলবার জানায় যে এই দেশগুলোর মধ্যে ৫৪টি রাষ্ট্র জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে তৈরি পণ্য আমদানির ওপর কার্যকর নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও তা প্রয়োগে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এই বাণিজ্যিক প্রস্তাবটি এমন এক সময়ে সামনে এলো যখন ট্রাম্প প্রশাসন তার জরুরি শুল্ক কাঠামো নতুন করে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এক বিশেষ রায়ে আমেরিকার পূর্ববর্তী শুল্ক ব্যবস্থা বাতিল হয়ে গিয়েছিল।
আমেরিকার এই নতুন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নীতিমালার ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর রপ্তানি খাত এক বড় ধরনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে।ইউএসটিআরের তথ্য অনুযায়ী জোরপূর্বক শ্রম সংক্রান্ত বিশেষ তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ, কানাডা, ইকুয়েডর, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান এবং যুক্তরাজ্যসহ ১৪টি দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে।
এছাড়া তদন্তাধীন থাকা বাকি ৪৫টি দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকেরা যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন শুল্ক আরোপের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বর্তমানে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন