জুলাই ৬, ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
কলকাতার দক্ষিণ শহরতলির বারুইপুরে এক কিশোরীকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। পুলিশের ধারণা, খুনের পর নয়, বরং জীবিত অবস্থাতেই বস্তাবন্দি করে ওই কিশোরীকে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
ময়নাতদন্তে কিশোরীর ফুসফুসে কাদা পানি পাওয়া গেছে। চিকিৎসকদের মতে, সাধারণত খুন করার পর লাশ পানিতে ফেললে ফুসফুসে পানি ঢোকার সুযোগ থাকে না। পানিতে ডুবে মৃত্যুর ক্ষেত্রেই এমনটি ঘটে, যা প্রমাণ করে পুকুরে ফেলার সময় কিশোরী বেঁচে ছিল। তবে তার আগে সে ধর্ষণের শিকার হয়েছিল বলে প্রাথমিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, কিশোরীর যৌনাঙ্গে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া মাথায় ভারী কোনো কিছুর আঘাতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং পানিতে ডুবে শ্বাসরোধ হওয়া—এই দুটি কারণকে মৃত্যুর জন্য দায়ী করছেন চিকিৎসকেরা। শনিবার গভীর রাতে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিসিটিভি ফুটেজ ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বয়ান খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ফুটেজে শনিবার বিকেলে বাজারের পথে কিশোরীকে হেঁটে যেতে দেখা যায়, যার কিছুদূর পেছনে ছিল প্রভাস মণ্ডল নামে এক যুবক। স্থানীয়দের কাছে সে মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত। জেরায় প্রভাস অসংলগ্ন তথ্য দিচ্ছে বলে জানায় পুলিশ। সে দাবি করেছে, চারজন কিশোরীকে নিয়ে গিয়েছিল এবং তাদের মধ্যে একজন আনন্দ সর্দার শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থেকেও সে কীভাবে সব জানল, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে তদন্তকারীদের।
গ্রেপ্তার অন্যদের বয়ানেও বিস্তর অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। পুলিশের ধারণা, অভিযুক্তরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিল এবং ঘটনার সাক্ষী হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠায় প্রমাণ লোপাট করতে কিশোরীকে হত্যা করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, নির্যাতিতার শেষ বাঁচার প্রচেষ্টার চিহ্ন বস্তার ছেঁড়া অবস্থাতেই স্পষ্ট। এ ঘটনার পর বারুইপুরসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন