বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মরক্কোর ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ১০:১৩ এএম

মরক্কোর ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোর রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পেয়েছেন একজন নারী। দেশটির নগর পরিকল্পনামন্ত্রী ও মারাকেশের মেয়র ফাতিমা জাহরা এল মানসুরিকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দিয়েছেন রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ। এর মধ্য দিয়ে পঞ্চাশ বছর বয়সী এই আইনজীবী ও রাজনীতিবিদের হাত ধরে দেশটিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। রাজপ্রাসাদের এক আনুষ্ঠানিক রাজকীয় ঘোষণায় নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের দায়িত্ব মানসুরির হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে।   জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল প্রকাশের চার দিন পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। 

নির্বাচনে ফাতিমা জাহরার নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থী দল অথেনটিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি সবচেয়ে বেশি আসনে বিজয় নিশ্চিত করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মর্যাদা লাভ করে। তবে মরক্কোর জটিল সংসদীয় নির্বাচনি ব্যবস্থার কারণে কোনো একক দলের পক্ষেই আইনসভার নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া কঠিন। ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আইনসভার অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সমঝোতার মাধ্যমে তাকে একটি নতুন জোট সরকার গঠন করতে হবে। এই ঐতিহাসিক পদায়নের মধ্য দিয়ে আরব বিশ্বে সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা দ্বিতীয় নারী হিসেবে নিজের নাম লেখালেন মানসুরি। 

এর আগে তিউনিসিয়ায় প্রথম আরব নারী হিসেবে সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেছিলেন নাজলা বাউডেন।   নবনির্বাচিত এই প্রধানমন্ত্রীর সামনে রয়েছে বেশ কিছু বড় অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ। ২০৩০ সালে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক ফুটবল মহাযজ্ঞের অন্যতম যৌথ আয়োজক দেশ মরক্কো। ফলে এই আসরকে ঘিরে কয়েক বিলিয়ন ডলারের মেগা অবকাঠামো প্রকল্পের বিনিয়োগ তদারকির পাশাপাশি দেশে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সাধারণ মানুষের আয় বৃদ্ধি ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে নতুন এই প্রশাসনকে।  

মরক্কোর সাংবিধানিক কাঠামোয় রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে রাজাই সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ক্ষমতার অধিকারী এবং তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করে থাকেন। ২০১১ সালে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়া আরব বসন্তের গণবিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে দেশটির সংবিধানে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার আনা হয়। ওই সংশোধনের পর থেকে সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ আসনপ্রাপ্ত রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীকেই প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ দেওয়া রাজার জন্য সাংবিধানিকভাবে বাধ্যতামূলক করা হয়। এই সংস্কারের আগে কোনো ধরনের আইনি বিধিনিষেধ ছাড়াই যেকোনো ব্যক্তিকে সরাসরি সরকারপ্রধান হিসেবে বাছাই করতে পারতেন রাজা।