অক্টোবর ৪, ২০২৬, ০৪:৪৩ পিএম
স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পরও বাংলাদেশের জন্য শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা অব্যাহত রাখার সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য। বর্তমানে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ যুক্তরাজ্যের বাজারে শতকরা ৯৯ দশমিক ৮ ভাগ পণ্যে সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার ভোগ করছে। এই তালিকা থেকে উত্তরণের পরবর্তী তিন বছর পর্যন্ত বিদ্যমান এই সুবিধা পুরোপুরি বহাল থাকবে। নির্ধারিত তিন বছর মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও এই সুবিধায় বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আনা হবে না। বরং দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের ৯২ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা কার্যকর রাখা হবে, যার মধ্যে তৈরি পোশাক খাতের পণ্যও সম্পূর্ণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬-এর দ্বিতীয় দিনের বিশেষ অধিবেশনে এই ইতিবাচক ঘোষণা দেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। ব্রিটিশ হাইকমিশনার জোর দিয়ে বলেন, লন্ডনের কাছে ঢাকা একটি অত্যন্ত কৌশলগত এবং দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত অংশীদার। দুই দেশের বিদ্যমান পারস্পরিক সম্পর্ক এখন আরও আধুনিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অবস্থান ও ভূমিকাকে তুলে ধরে। দুই দেশের মানুষকে পরস্পরের সাথে সংযুক্তকারী প্রবাসী জনগোষ্ঠী এই মজবুত সম্পর্কের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর গভীরতা তুলে ধরে তিনি জানান, ব্রিটেনে বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ বিনিয়োগকারী দেশ হিসেবে অবস্থান করছে। ব্যাংক ও আর্থিক খাত থেকে শুরু করে পোশাক তৈরি, আধুনিক শিক্ষা ও বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে ব্রিটিশ বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপক বিনিয়োগ বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক রূপান্তর এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরাসরি ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশ যখন স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে চূড়ান্ত উত্তরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন যুক্তরাজ্যের প্রধান লক্ষ্য এই উত্তরণ পর্বকে পুরোপুরি মসৃণ ও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই রাখা। ব্রিটিশ সরকারের ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিমকে বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিমণ্ডলে অন্যতম সহজ ও উদার অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য কাঠামো হিসেবে গণ্য করা হয়।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা অংশীদারিত্বকে আরেকটি মৌলিক স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করেন ব্রিটিশ দূত। একটি অবাধ, উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে উভয় দেশের স্বার্থ অভিন্ন। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের ভৌগোলিক গুরুত্ব বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও সমুদ্রসীমায় বাংলাদেশের সক্রিয় দায়িত্বশীল ভূমিকার স্বীকৃতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য। সমকালীন নিরাপত্তা বাস্তবতায় অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সাইবার স্পেসের ঝুঁকি এবং পরিবেশগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রচলিত গণ্ডি পেরিয়ে সমন্বিত যৌথ পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে একমত প্রকাশ করেছে দুই দেশ।
মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দীর্ঘায়িত সংকট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ব্রিটিশ হাইকমিশনার জানান, বিশ্ব দরবারে এই মানবিক সংকটের ওপর মনোযোগ ধরে রাখতে ব্রিটেন অঙ্গীকারবদ্ধ। সংকটটির একমাত্র টেকসই সমাধান হলো অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মানবিক মর্যাদার সঙ্গে নিজ মাতৃভূমিতে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা।
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের বাস্তবতায় সারাহ কুক বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা এমন একটি সাধারণ সংকট যেখানে ঢাকা ও লন্ডনের স্বার্থ সমানভাবে জড়িত। জলবায়ুগত ঝুঁকির নির্মম বাস্তবতা বাংলাদেশের চেয়ে ভালো আর কোনো দেশ উপলব্ধি করতে পারে না। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঋতুচক্রের অস্বাভাবিক পরিবর্তন এবং উপর্যুপরি চরম আবহাওয়া কোনো অনুমানমূলক বিষয় নয়, বরং বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত এর ক্ষয়ক্ষতি প্রত্যক্ষ করছে এবং এই সংকট ভবিষ্যতের বহু প্রজন্ম ধরে অনুভূত হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন