সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৫, ০২:২৩ পিএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া গাজা শান্তি পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা। তবে পরিকল্পনাটি প্রকাশ করার সময় ট্রাম্প হামাসকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সমঝোতায় তৈরি এই পরিকল্পনায় তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি, হামাসের হাতে আটক ২০ জন জীবিত ইসরায়েলি জিম্মি ও অন্তত দুই ডজন নিহত জিম্মির মরদেহ ফেরত এবং এর বিনিময়ে শত শত বন্দি ফিলিস্তিনিকে মুক্তির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউজে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প একে ‘ঐতিহাসিক শান্তির দিন’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, হামাস পরিকল্পনা না মানলে যুক্তরাষ্ট্র হামাসকে ধ্বংস করার ব্যাপারে ইসরায়েলকে পূর্ণ সমর্থন দেবে।নেতানিয়াহুও বলেন, হামাস প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে ইসরায়েল 'শেষ পর্যন্ত লড়বে'।
যদিও পরিকল্পনায় ইসরায়েলি সেনাদের গাজা থেকে ধাপে ধাপে সরে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে, তবুও পরে ভিডিওবার্তায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের বিরোধী বলে ঘোষণা করেন।পরিকল্পনা অনুযায়ী, হামাসকে গাজার শাসন থেকে সম্পূর্ণভাবে দূরে থাকতে হবে। এতে ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ আছে, যদিও নেতানিয়াহু পরে সেই সম্ভাবনা নাকচ করেছেন।
গাজায় অরাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ফিলিস্তিনি কমিটির মাধ্যমে শাসনকাজ চলবে, যার তত্ত্বাবধান করবে নতুন আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘বোর্ড অব পিস’। এর নেতৃত্বে থাকবেন ট্রাম্প এবং সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারও এতে যুক্ত থাকবেন। পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, ইসরায়েল গাজা দখল বা সংযুক্ত করবে না, বরং ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহার করবে।
ফিলিস্তিনিদের গাজা ছাড়তে বাধ্য করা হবে না, বরং তাদের সেখানে থেকেই গাজা পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়া হবে।ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ: ট্রাম্পের প্রচেষ্টাকে ‘আন্তরিক ও দৃঢ়’ আখ্যা দিয়েছে। তারা যুদ্ধ বন্ধ, মানবিক সহায়তা ও বন্দি বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।
মধ্যপ্রাচ্য: সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, মিশর, জর্ডান, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ট্রাম্পের নেতৃত্বকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেন, এই চুক্তি ‘দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথ তৈরি করবে’, যেখানে গাজা ও পশ্চিম তীর একীভূত হয়ে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন করবে।
ইউরোপ: ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা নেতানিয়াহুর ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় উৎসাহিত হয়ে সব পক্ষকে এই সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার বলেন, হামাসের উচিত এখনই অস্ত্র ফেলে জিম্মিদের মুক্তি দিয়ে কষ্টের অবসান ঘটানো।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, এই প্রক্রিয়া অবশ্যই দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের দিকে এগোতে হবে।নতুন পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উভয় পক্ষের যুদ্ধ সীমারেখা স্থির থাকবে। হামাস অস্ত্র জমা দেবে, টানেল ও অস্ত্র তৈরির কারখানা ধ্বংস করা হবে।
প্রতিটি ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ ফেরত দিলে ইসরায়েল ১৫ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ ফেরত দেবে।দোহায় হামাস নেতাদের কাছে কাতার ও মিশরের কর্মকর্তারা হোয়াইট হাউজের এই পরিকল্পনা হস্তান্তর করেছেন। এক ফিলিস্তিনি সূত্র জানায়, হামাস এখনো প্রস্তাবটি খতিয়ে দেখছে। তবে তারা বলছে, যে কোনো সমঝোতায় অবশ্যই ইসরায়েলি সেনা সম্পূর্ণভাবে গাজা থেকে সরে যাবে এবং ফিলিস্তিনি স্বার্থ রক্ষা হবে।




দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন