অক্টোবর ২, ২০২৫, ১১:০১ এএম
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের টানাপোড়েনের মধ্যেই আবারও লন্ডন সফরে গেলেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত (চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স-সিডিএ) ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন। বুধবার (০১ অক্টোবর) সকালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তিনি ঢাকা ছেড়েছেন। বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন তার স্বামী ডেভিড বাফকে নিয়ে সফর করলেও এটিকে কেবল ব্যক্তিগত সফর হিসেবে মানতে নারাজ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ট্রেসির দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাজ্য সফর ঢাকার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
নির্ভরযোগ্য কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ট্রেসির এই সফরের নেপথ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। এই সফরে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে তার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি।
এর আগে গত জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে লন্ডন সফরে গিয়ে ট্রেসি প্রথম দফায় তারেক রহমানের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেছিলেন। সেই বৈঠকে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন, সরকার গঠন নিয়ে বিএনপির ভাবনা এবং নির্বাচন কমিশনের রূপরেখা নিয়ে তাদের মতামত—এমন মৌলিক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে জানা যায়।
উল্লেখ্য, এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও লন্ডন সফরে গিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকের পরপরই আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ঘোষণা আসে।
এই পটভূমিতে ট্রেসি জ্যাকবসনের বর্তমান লন্ডনযাত্রা 'ট্র্যাক টু ডিপ্লোমেসির' অংশ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, জুলাইয়ের বৈঠক ছিল প্রাথমিক আলোচনার, এবারের বৈঠকটি নির্বাচনের রোডম্যাপ, বিরোধী দলের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে আরও গভীর হতে পারে। এটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধির একটি ইঙ্গিত।
যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের এক কর্মকর্তার দাবি, এটি একটি নির্ধারিত ছুটি, তবে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনাগুলো তারা গোপনীয় রাখতে চান।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন