নভেম্বর ৫, ২০২৫, ১২:৪৭ পিএম
বিশ্ব কেন ফিলিস্তিনিদের কান্না দেখতে পায় না? নীরবতার আড়ালে চাপা পড়া হৃদয়বিদারক গল্পগাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও নিরীহ ফিলিস্তিনিদের কষ্ট লাঘব হচ্ছে না। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক শান্তি আলোচনা ও মধ্যস্থতাকারী সাংবাদিক লাবনা মাসারোওয়া যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ে প্রকাশিত এক নিবন্ধে এই মর্মস্পর্শী প্রশ্নটি তুলেছেন।তিনি লিখেছেন, মিশরের শার্ম আল-শেখে যখন বিশ্ব নেতারা যুদ্ধবিরতির পর হাসিমুখে করমর্দন করছিলেন, তখন ইসরাইলি সেনাবাহিনী থেমে থেমে গাজায় বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছিল।
যুদ্ধবিরতির ঠিক একদিন পরেই ইসরাইলি হামলায় ১০৪ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৪৬ জন শিশু।নিবন্ধে সাংবাদিক মাসারোওয়া ইসরাইলি এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি বিশ্বের দ্বৈত মানদণ্ড তুলে ধরেছেন:ইসরাইলি আবেগ: ইসরাইলি গণমাধ্যম তাদের বন্দীদের জীবন, প্রিয় খাবার এবং পরিবারে ফিরে আসার মুহূর্ত বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করে। এক ইসরাইলি বন্দির স্ত্রী যখন তার ছেলেকে বলেন যে বাবা ফিরে এসেছেন, তখন টিভি উপস্থাপকদের চোখেও পানি দেখা যায়।ফিলিস্তিনি নীরবতা: অন্যদিকে, গাজার শহীদ শিশুদের জন্য কেউ চোখের জল ফেলে না।
নিবন্ধে বলা হয়, বিশ্বের কাছে ফিলিস্তিনিরা এখন আর মানুষ নয়; তারা আবেগহীন, অতীতহীন ও ভবিষ্যৎহীন প্রাণী হয়ে উঠেছে।হাইসাম সালেম নামে গাজার এক ফিলিস্তিনি বন্দি মুক্তি পাওয়ার পর জানতে পারেন যে, ইসরাইলি হামলায় তার স্ত্রী এবং তিন সন্তান শহীদ হয়েছেন। হাসপাতালে গিয়ে তিনি চিৎকার করে কেঁদে ওঠেন এবং নিজের হাতে বানানো মেয়ের জন্মদিনের ব্রেসলেটটি দেখিয়ে বলেন, "আমার মেয়েটার জন্মদিন ছিল চার দিন পরে।"
নিবন্ধে বলা হয়েছে, ২০,০০০ শিশুসহ ৬৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনির জীবনও বিশ্বকে নাড়া দিতে যথেষ্ট নয়। আর শার্ম আল-শেখের ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরকারী সরকারগুলো ফিলিস্তিনিদের পরামর্শ দিচ্ছে, স্বাধীনতা অর্জনের একমাত্র উপায় হলো আলোচনা, প্রতিরোধ নয়—যদিও ইসরাইল বারবার চুক্তি ভঙ্গ করে চলেছে।সাংবাদিকের মতে, গাজায় একটি 'যুদ্ধোত্তর' নতুন মডেল রূপ নিচ্ছে, যেখানে 'প্রতিরক্ষার অধিকার' কেবল 'জানার অধিকার'-এ প্রতিস্থাপিত হয়েছে—যার মানে হলো ইসরাইল যখনই চাইবে তখনই ফিলিস্তিনিদের হত্যা করবে, তবে ফিলিস্তিনিরা কিছু করতেও পারবে না, বলতেও পারবে না।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন