জানুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে প্রসিকিউশন। আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি) মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ প্রসিকিউশন পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন (আর্গুমেন্ট) শেষে এই দাবি জানানো হয়।
প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম আদালতের সামনে সাঈদ হত্যার বর্বরতা ও ভিডিও ফুটেজের সাক্ষ্য তুলে ধরে আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন।
মামলাটিতে প্রসিকিউশন পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামীম অংশ নেন। অন্যদিকে, বিবাদী পক্ষে বেরোবি’র তৎকালীন প্রক্টর শরিফুল ইসলামের পক্ষে আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো এবং পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী সুজাদ মিয়া লড়াই করছেন।
গত ৩০ জুন এই মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। এ পর্যন্ত তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৫ জন সাক্ষী এই মামলায় সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।বর্তমানে এই মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন ৬ জন আসামি। তারা হলেন— বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ এবং পুলিশের এএসআই আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী আকাশ।
১৬ জুলাই পার্ক মোড়ে নিরস্ত্র আবু সাঈদের ওপর পুলিশের গুলি বর্ষণের ভিডিওটি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল, যা পরবর্তীতে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে চূড়ান্ত রূপ দেয়।প্রসিকিউশন তাদের যুক্তিতে উল্লেখ করেছে, আবু সাঈদ হত্যা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে তৎকালীন সরকারের পরিকল্পিত গণহত্যার অংশ। জুলাই-আগস্টের সেই মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে সাঈদ হত্যা মামলার রায় একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। আদালত উভয় পক্ষের যুক্তি শুনে মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য দিন ধার্য করেছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন