এপ্রিল ৮, ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম
সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং তার একান্ত সচিব (পিএস) শামসুদ্দিন মাসুমের বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে সাব-রেজিস্ট্রার বদলি করে শত কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু অনুসন্ধানের দাবি জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করা হয়েছে। বুধবার ৮ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের বরাবর এই আবেদন জমা দেন।
দুদকে জমা দেওয়া আবেদনে অভিযোগ করা হয় যে, আসিফ নজরুলের পিএস শামসুদ্দিন মাসুমের সরাসরি মধ্যস্থতায় এসব বড় অঙ্কের ঘুষ লেনদেন হয়েছে।
আইনজীবী তার আবেদনের ভিত্তি হিসেবে গত ৩ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত একটি সংবাদের উদ্ধৃতি দিয়েছেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলের আট মাসে আইন মন্ত্রণালয়ে শুধু সাব-রেজিস্ট্রার বদলি ঘিরেই শত কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে।
আবেদনকারীর দাবি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এই আট মাসে নিবন্ধন অধিদপ্তরের মোট ৪০৩ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্যে কমপক্ষে ২৮২ জনকে বদলি করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই বিপুল সংখ্যক বদলির মধ্যে অন্তত ২০০ জন মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে নিজেদের পছন্দের স্টেশনে পদায়ন পেয়েছেন। সংশ্লিষ্ট মহলে অভিযোগ উঠেছে যে, প্রতিটি সুবিধাজনক বদলির আদেশের জন্য কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের ইতিহাসে এর আগে এত স্বল্প সময়ে এত বিপুল সংখ্যক সাব-রেজিস্ট্রার বদলির কোনো রেকর্ড নেই।
ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেন তার আবেদনে আরও উল্লেখ করেন যে, এই বদলি প্রক্রিয়ায় সরকারি কোনো নিয়ম বা নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি। বিদ্যমান বিধিমালা অনুযায়ী ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ গ্রেডের অফিসগুলোতে কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পদায়নের নিয়ম থাকলেও তা লঙ্ঘন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে যে, যারা প্রতিশ্রুত টাকা পরিশোধ করতে পারেননি, তাদের বদলির আদেশ পরবর্তীতে স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি কোনো কোনো কর্মকর্তাকে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে তিন থেকে চারবার পর্যন্ত বদলি করার নজির পাওয়া গেছে।
আইনজীবী সারোয়ার হোসেন জানান, একজন প্রভাবশালী উপদেষ্টার সময়ে এমন অনিয়ম কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি মনে করেন, দুদকের উচিত এই অভিযোগ গুরুত্বের সাথে নিয়ে তদন্ত শুরু করা। সাব-রেজিস্ট্রার বদলির নেপথ্যে থাকা বিশাল এই আর্থিক লেনদেনের উৎস এবং এর সুবিধাভোগীদের খুঁজে বের করার জন্য দুদকের সক্রিয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
এই আবেদনের মাধ্যমে সাবেক উপদেষ্টা ও তার পিএসের সম্পদের হিসাব এবং বদলি বাণিজ্যের বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে আসবে বলে তিনি প্রত্যাশা করছেন।বর্তমানে আবেদনটি দুদকের যাচাই-বাছাই ইউনিটের পর্যালোচনার অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানা গেছে। দুদকের নিয়ম অনুযায়ী অভিযোগটি প্রাথমিক তদন্তের যোগ্য বলে বিবেচিত হলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এই খবর প্রকাশের পর আইনি ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন