শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা মাঞ্জিল হায়দার ৪ দিনের রিমান্ডে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১০, ২০২৬, ১১:২৭ পিএম

বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা মাঞ্জিল হায়দার ৪ দিনের রিমান্ডে

আদালতে সাবেক মেজর মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরী

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ব্যবসায়ী আবদুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক কর্মকর্তা মেজর (অব.) মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরীর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম এই আদেশ দেন। 

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মো. আমজাদ হোসেন তালুকদার আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষে সরকারি কৌঁসুলি আজিজুল হক রিমান্ডের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বক্তব্য দেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে আইনজীবী শেখ ফরিদ ও কালাম হোসেন রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ডের অনুমতি দেন। 

ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রধান কৌঁসুলি ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।তদন্ত কর্মকর্তা তাঁর রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করেছেন যে, গত জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে তৎকালীন সরকারের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশে যে দমন-পীড়ন চালানো হয়েছিল, তাতে মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতা ছিল। বিশেষ করে তিনি তৎকালীন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় নিজের পদের প্রভাব খাটিয়ে আন্দোলন দমনের পরিকল্পনা করেছিলেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। 

এছাড়া আন্দোলন দমনে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও আর্থিক সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রেও তাঁর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নিউমার্কেট এলাকায় ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশের গুলি ও হামলার ঘটনা ঘটে। সেই হামলায় ব্যবসায়ী আবদুল ওয়াদুদ গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। 

এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে নিহতের শ্যালক আবদুর রহমান বাদী হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ ১৩০ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার তদন্তের অংশ হিসেবেই গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালী ডিওএইচএস এলাকা থেকে মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। বরখাস্ত হওয়া এই সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য পরিকল্পনা ও অন্যান্য সহযোগীদের বিষয়ে তথ্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে ডিবি পুলিশ।